নিয়মিত সাইকেল চালালে কি কি উপকার পেতে পারেন

 

সাইকেল, ২ চাকার একটি যানবাহন অথচ নিয়মিত সাইক্লিং করলে অনেক ধরনের উপকার পাওয়া যায় যা আমরা অনেকে জেনেও না জানার ভান করে আছি। বরং কেও সাইক্লিং করে পাশ দিয়ে গেলে আমরা হাসি ঠাট্টা করি এমনও হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে এই চিত্র অনেক বদলে গেছে, শহরে সাইক্লিং অনেক বেড়ে গেছে, কেও স্বাস্থ্য সচেতনার জন্য, কেও সময় সেইভ করার জন্য, কেও ট্র্যাফিক ফ্রি’র জন্য, কেও বা শখেও সাইক্লিং করে থাকি। আমরা অনেকেই সময়, ব্যস্ততা, বাস্তবতার খাতিরে অনেক কিছুই করতে পারি নাহ, তবে আপনি জানেন কি, আপনি যদি এখনই স্বাস্থ্যের এই ছোট ছোট বিষয় গুলো নজর না দিন তাহলে একটু বয়স হলেই পড়তে হবে নানান বিপাকে, এখন তো আর বয়স দেখে রোগ বালাই আসে নাহ। যে কোন বয়সের যে কেও হাইপারটেনশন, ডাইবেটিস, ক্যান্সার, কিডনি জনিত সমস্যা, হাড় সংক্রান্ত সমস্যা, মানসিক চাপ ইত্যাদি নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সচেতনতা শুরু হউক এখন থেকেই।

আমরা দিন শেষে ভাবি, এখন তরুন বয়স খাওয়া দাওয়া করে নেই ভালো ভাবে, এত স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবলে অফিস/ক্লাস/জীবন/আনন্দ/রুচি এই সব নিয়ে ভাববো কখন? ঠিক তাই, আপনি অবাক হবেন যে আমরা এখন মেন্টাল প্রিপ্রারেশন সেট আপ করে নেই যে চিকিৎসার জন্য একটা ভালো এমাউন্ট জমানো শুরু করি, যাতে শেষ বয়সে চাকরি শেষ হলে হাসপাতালের বিল দেওয়া নেওয়া নিয়ে বেগ পোয়াতে না হয়। মুটামুটি হাসপাতালের চিত্র এই রকমই, বিশ্বাস হচ্ছে নাহ যে কোন হাসাপাতালেই গিয়েই এর চিত্র দেখুন। এই চিত্রটা পাল্টে ফেলুন, এই ধরনের চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে আসুন।

 

নিয়মিত সাইকেল চালালে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়ঃ

  • স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত সাইক্লিং করলে খুব ভালো ঘুম হবে।
  • শরীরের ত্বক ভালো রাখে, বয়সের চাপ পড়ে নাহ।
  • আপনার ব্রেনের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
  • নিয়মিত সাইক্লিং করলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • গবেষণায় বলে হার্ট সংক্রান্ত যে কোন ঝুঁকি ৫০% কমিয়ে দেয়।
  • নিয়মিত সাইক্লিং এ ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • রক্তের কোলেস্টরেল কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
  • আপনি খুব দ্রুত আপনার লোকেশনে পোঁছাতে পারবেন।
  • আপনার সেক্স লাইফে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
  • আপনার লাং ভালো রাখে, অতিরিক্ত অক্সিজেন পাওয়া যায়।
  • গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী, যদিও বাংলাদেশে এটা খুব কম দেখা যায়।
  • মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার ও যে কারো ক্যান্সার প্রতিরোধে সাইক্লিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • কাজের গতি বেড়ে যায়, কাজে মনযোগী আসে।
  • পরিবেশের কোন ক্ষতি করে নাহ, পরিবেশ বান্ধব।
  • যখন অনেক টায়ার্ড মনে হবে, সাইক্লিং করুন।

 

কখন ও কোথায় চালাবেনঃ

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইক্লিং করতে পারেন
  • বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় (আপনার সুবিধা জনক সময়ে)
  • খোলা মাঠে অথবা রাস্তায় সুবিধা জনক স্থানে
  • সাথে পানি রাখতে ভুলবেন নাহ

 

সতর্কতা ও করনীয়ঃ

  • হেলমেট ব্যবহার করুন (বিকল্প নেই)
  • নিয়মিত সাইকেল পরিষ্কার করুন
  • লক চেক করে নিন, কোথাও সাইকেল রাখলে লক করতে ভুলবেন না
  • সাইকেল বের করার আগে দেখে নিন সব ঠিক আছে কিনা
  • ২ মাসে একবার সার্ভিসিং করুন, নিজে জানলে তো ভালোই
  • মেইন রোড যেমন বাস অথবা ট্রাকের আনাগোনা বেশি এমন রাস্তা পরিহার করুন
  • খুব গভীর রাতে মেইন রোডে সাইকেল চালাবেন না, পেছনে হেড লাইট ব্যবহার করুন

 

 

আপনার যে কোন মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন।

Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Email: ac.papon@gmail.com, Website: www.asive.me