ব্রেনের অ্যালজেইমার রোগ প্রতিরোধে শসা

সা (CUCUMBER)  | বৈজ্ঞানিক নামঃ Citrullus colocynthis

শসা (Cucumis sativus) গোর্ড পরিবার কিউকারবিটাসের অন্তর্গত একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ। শসা এক প্রকারের ফল। লতানো উদ্ভিদে জন্মানো ফলটি লম্বাটে আকৃতির এবং প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এর বাইরের রঙ সবুজ। তবে পাকলে হলুদ হয়। এটি কাচা খাওয়া যায় অথবা সালাদ করেও খাওয়া যায় । শসা অনেক বছর ধরেই আয়ুবেদিক হিসাবে কাজ করে আসছে। বাজারে শসা খুব জনপ্রিয় একটি নাম, দামও খুব বেশি নয়, কিন্তু এর আছে অনেক উপকারিতা , আমরা অনেকেই পলাউ বা গরু মাংসের সাথে সালাদ হিসাবে খেতে হয় বলেই শসা খাই অথবা কোথাও থেকে শুনেছি যে শসা ওজন কমায়, এটা সত্যি শসা ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে এ ছাড়াও শসাতে রয়েছে আরও অনেক কার্যকরী উপাদান চলুন জেনে নেই কেন নিয়মিত শসা খাব। 


শসাতে কি কি উপকার পাওয়া যায়ঃ 

  • শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রুগীদের জন্য উপকারী।
  • কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।
  • শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।
  • শসার মধ্যে বিদ্যমান ভিটামিন এ, বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়।
  • শসায় থাকা সিলিকা ও সালফার চুলের বৃদ্ধিতে ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে।
  • শসা ফাইবারের একটি অন্যতম উৎস যা আমাদের দেহের ওজন কমাতে টনিক হিসেবে কাজ করবে। 
  • শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাড়–র মতো কাজ করে। 
  • শসায়  ও শসার খোসায় রয়েছে স্টেরল নামের উপাদান, যা কোলেস্টেরল কমায় ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
  • শসার ৯৫ শতাংশই পানি, গরমে শরীরে অতিরিক্ত উত্তাপ অনুভব করলে বা পানির পিপাসায় শসা পিপাসা মিটিয়ে শরীরে স্বস্তি দেয়। 
  • ত্বক রক্ষায় শসা ভালো কাজ করে, চোখে শসা রাউন্ড করে কেটে ১৫ মিনিট রেখে দিলে তা চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা দূর করে, চোখের জ্যোতি বাড়ায়। উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
  • দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করেএরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে। দুঃচিন্তা ও কঠিন চাপ কমাতে সাহায্য করে শসাতে বিদ্যমান ভিটামিন – বি।
  • গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের কমে। কিডনি থাকে সুস্থ এবং কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়। এছাড়াও রাতে শসা খেয়ে ঘুমালে সকালে শরীরের মেজ মেজ ভাব দূর হয়।
  • শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান এর উপস্থিতির কারনে জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। 
  • অ্যালজেইমার রোগটি সাধারণভাবে স্মৃতিভ্রংশের সাধারণ রূপ। এই রোগের প্রতিকার এখনও বের করা যায়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয় এবং ধীরে ধীরে রোগী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এই রোগে ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক নিজের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ও আক্রান্ত ব্যক্তি পাগল পাগল হয়ে যায়। শসা ব্রেনের অ্যালজেইমার রোগ ও ব্রেনের অন্যান্য সমস্যা থেকেও রক্ষা করে। 

কি কি উপাদান আছে শসাতেঃ

ভিটামিন এ, বি, সি, কে, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন, সালফার ও সিলিকা, “সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরোসিনোল ও পিনোরেসিনোল” (আয়ুর্বেদিক উপাদান) ফাইবার, ফ্লুইড এবং ফাইবার।

কখন খাবেন, কিভাবে খাবেনঃ

  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শসা খেতে পারেন।
  • দুপুরে খাবারের সাথে সালাদ হিসাবে রাখতে পারেন
  • অতিথি আপ্যায়নে শসার সালাদ রাখতে পারেন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে শসা খেতে পারেন।

ছবি ও তথ্যঃ গুগোল, জার্নাল পেপার, নিউজ, ব্লগ ও উইকিপিডিয়া।

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন – নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে ।


Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Google Site | Wikipedia | Instagram | Asive’s Blog

Email: ac.papon@gmail.com, Web: www.asive.me