একপাত্রে সব ডিম রাখতে নেই

Spread the love

এমন একটি বাক্য “একপাত্রে সব ডিম রাখতে নেই ” [DON’T PUT ALL YOUR EGGS IN ONE BASKET] – If the basket is dropped, all is lost আমরা অনেকেই শুনেছি কিন্তু উপলব্দি করি নাই, তবে করোনা প্যান্ডামিক কিন্তু অনেককেই এই বাক্য এর মর্ম বুঝিয়ে দিচ্ছে দিনে দিনে। আমেরিকান ইনভেস্টর এবং ব্যবসায়ী Warren Buffett সব সময়ই এই কথাটি বলেন ব্যবসা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এমন কি সারা বিশ্বের জন্যই।

আপনি পড়া শুনা করলেন, গ্র্যাজুয়েট হলে এবং স্কিলড হলেন, জব শুরু করলেন এবং মাস শেষে ভালো এমাউন্টের কম/বেশি স্যালারিও পেলেন। নিজের ইচ্ছায় বা পরিবারের ইচ্ছায় জব করে নিজের অর্জিত টাকা পেয়ে আপনি যেমন খুশি একই সাথে আপনার পরিবারও খুশি। ব্যাপারটা সত্যি আনন্দের তবে এর মধ্যে হঠাৎ কোন দুর্ঘটনা বা চাকরি ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমস্যায় নিজেকে অনেক কিছুর মধ্যে মানিয়ে নেওয়াও কষ্টের হয়ে পড়ে। বুদ্ধিমানরা এর সাথেই বা পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে, নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করে অথবা এই রিলেটেড অন্য ওয়ে বা ক্ষেত্র তৈরি করে ভবিষ্যৎ ভেবে যার একটা বড় অংশ (তরুণ) আমরা করি না অর্থাৎ বিখ্যাত ব্যক্তি ওয়ারেন্ট বাফেট এর কথা অনুযায়ী ডিম গুলো বিভিন্ন পাত্রে রাখার চেষ্টা করে, যা সময়ে অসময়ে আপনাকে অনেক কিছু শিখায় এবং চলার পথ সহজ করে দেয়।

যদিও পৃথিবীতে কোন কিছুই আসলেই চিরস্থায়ী নয়, তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই। যে/যারা নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্দি করেন তারাই কেবল এর মর্ম বুঝেন, অন্যদিকে একটা বড় অংশ এমন পরিস্থিতির শিকার না হলেই এর মর্ম বুঝেন না বা বুঝতে চান না। বিশ্ব যখন করোনার মহামারীতে আকাল তখন চোখের সামনেই অনেকেই বেকার হয়ে যাচ্ছেন, চাকরীচ্যুত হচ্ছেন, সেলারি কেটে নেয়া হচ্ছে, পারফর্মেন্স থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা না থাকায় কঠিন পরিস্তিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তারা কিছুটা হলেও উপলব্দি করছেন ব্যাপারটা, আমিও এর বাহিরে নয়। একজন ক্ষুদ্র স্বপ্নবাজ ও তরুন উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেদের স্বপ্ন বাঁচানো এবং অন্যের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদেরও এই মহামারিতে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত আর উপলব্দি করতে হচ্ছে অনেক বাস্তব চিত্র ও ভিন্ন কিছু।

অনেক ছোট ছোট উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বড় উদ্যোগও ভেঙ্গে পড়ছে, অনেক ফ্রিল্যান্সারও কঠিন সময় পার করছেন, একই সাথে অনেক ছোট ছোট পরিবার / সংসার / স্বপ্ন গুলো শহর ছেড়ে গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন, কারন এমন পরিস্থিতিতে শহরে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এটাই চরম বাস্তবতা। দিনে দিনে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

সম্প্রতি এক জরিপে বলছে আমেরিকার জবলেস / বেকার সংখ্যা যেখানে ৩-৪ মাস আগেও ছিল ৪ শতাংশ তা এখন বেড়ে ১৪ শতাংশের উপর চলে এসেছে। বড় বড় কোম্পানি গুলো বিজনেস ছোট করছেন, কেও কেও অফলাইন সার্ভিস কমিয়ে অনলাইন মুখি হচ্চেন। উবার ইটস এর মত বড় জায়ান্ট বাংলাদেশ সহ সিঙ্গাপুরে নিজেদের অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছেন, বাংলাদেশী উদ্যোগ পাঠাও ও উবার তাদের সেবা বন্ধ করে রেখেছেন গত ৩-৪ মাস ধরে। যার ফলে একটা বড় অংশ কাজবিহীন হয়ে গেছেন। মালেশিয়ায় বিদেশী কর্মচারী বেশি বেতনের পরিবর্তে নিজেদের দেশে কম বেতনের কর্মী খুঁজছেন। মিডেল ইস্ট যেমন কুয়েত, সৌদি, কাতার সহ নানান দেশে লাখ লাখ বাঙ্গালী বেকার হয়ে গেছেন কারন কাজ নেই সব বন্ধ। এই সব উদাহরন দেওয়ার একটাই কারন এটা শুধু আমাদের দেশের সমস্যা বা চিত্র নয়, বরং সারা বিশ্বের চিত্র। আর সবাই এক মুখী মানে চাকরি, চাকরি এবং চাকরি।

আবার অন্যদিকে যদি তাকাই ইবিজনেস বা টেক বিজনেস যেমন জুম, ইউটিউব, আমাজন, ফেইসবুক, টুইটার, গুগোল তারা এমন সময়ে মিলিয়ন ডলারও কামিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে টুইটার ও গুগোল ঘোষণাও দিয়েছে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাসা থেকেও অফিস করা যাবে, অফিসে পিজিকিলি যেতে হবে না। যদিও টেক বেইজড কোম্পানি বলেই সম্ভব হয়েছে, পিজিকেল বিজনেস বা অন্য ধরনের বিজনেসে এটা খুবই কঠিন।

সবাই চাকরি করবে এমন কথা নয়, আবার সবাই উদ্যোক্তা হবে এমনও কথা নয়। তবে যে যাই করুন না কেন, “একপাত্রে সব ডিম রাখতে নেই” পাশাপাশি অন্য কিছু করা বা নিজের মত করে কিছু গুছানো উচিৎ। তাহলে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় বা হবে। করোনা ভাইরাসই শেষ নয়, করোনা ভাইরাসের পরেও নাকি এরকম আরো ভাইরাস পৃথিবীতে মহামারির রূপ নিয়ে আসবে এবং অতীতেও এসেছেন। আবার পৃথিবীতে যত রোগ বালাই আসুক না কেন এর প্রতিষেধকও আল্লাহ্‌ রা আলা দিয়ে রেখেছেন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

সময় এখন নতুন কিছু শিখুন, নিজেকে জালাই করুন, নিজেকে জানুন, নিজের স্কিল ডেভেলপ এর দিকে গুরত্ব দিন, নিজের সিভিটা জালিয়ে নিন, নতুন উদ্যোগ নিয়ে ভাবুন, চাকরিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করুন, পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকুন, আগামী দিনের জন্যে আপনি কি করতে পারেন, কিভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন! আর হ্যাঁ সব সময় এক দিক চিন্তা করে বসে থাকবেন না, নিজের চিন্তা ভাবনা গুলো ছড়িয়ে দিন। নিজে জানুন অন্যকে জানান। আধুনিক কৃষি নিয়ে ভাবুন, বন্ধুর সাথে পার্টনারশিপ বিজনেস শুরু করুন, অনলাইনে আয়ের উৎস বের করুন, অনলাইনে পড়ুন বা পড়ান, ছোট ছোট উদ্যোগ নিন যা কিনা আপনার চাকরি বা উদ্যোগের পাশাপাশি সময়ে চলমান রাখতে পারেন।

আপনার কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন এখানে “লার্ন উইথ আছিব” আর হ্যাঁ করোনার এমন কঠিন সময়ে বাসায় থাকুন, নিরাপদে থাকুন, পরিবারকেও নিরাপদ রাখুন। করোনার এই মহামারী সময়ে বাসায় বসেই (০১৬১১ ৪৪ ৫৫ ৪১ কল করে জেনে নিন কনসালটেন্সি ফি ও সময়) চিকিৎসা নিতে যোগাযোগ করুন এখানে “টক উইথ ডাক্তার মাস্তুরা কাস্মীরী


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me