করোনার সময়ে সাইকেল হউক বিকল্প যানবাহন

ঢাকা শহরের আকারের তুলনায় জনসংখ্যা অতিরিক্ত বেশি, এই ছোট্ট ঢাকায় সাড়ে চার কোটি লোকের বসবাস যদিও সরকারী হিসাব মতে ২ কোটির মতন, এই জনসংখ্যা পৃথিবীর অনেক দেশে পুরো দেশেও নেই। এই রকম একটি ঘনবসতি শহরে নগরের সকল সুবিধা ও জীবনের চাকা সচল রাখার জন্য গ্রাম থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ ঢাকা শহরে আসে, তার অবশ্য অনেক গুলো কারন আছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত এখানে লিখছি না, তবে খুব দ্রুত শহর কে ছড়িয়ে না দিতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন আমরা হতে যাচ্ছি। বিশেষ করে উন্নত জীবন, আধুবিক সুযোগ সুবিধা, আধুনিকতার ছোঁয়া, ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চাকরি / কর্মসংস্থান সব কিছু মিলিয়েই আসলে শহরকে বেছে নেওয়া হয়। গবেষণায় বলা হয় আধুনিক শহর পরিকল্পনায় প্রথমেই শহরের ২৫% রাস্তা বা সড়ক হিসাবে ধরতে হয় আমাদের ঢাকা শহরে হয়তো তা মানা হয়নি, তাই অধিকতর জনসংখ্যায় ট্রাফিক এর পরিমানও ভয়াবহ রূপ ধারন করছে দিন দিন।

ভেলোসি সাইকেল

ঢাকায় একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ট্রাফিক, মুটামুটি এই ব্যাপারের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। যত দূর জানি একটি শহরের পরিকল্পনায় ১০০ % ভাগের ২৫% রাস্তা রাখতে হয়, যেখানে আমাদের ঢাকা শহরের আছে ৮%, তাই ট্র্যাফিক হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এর সমাধান খুব সহজও নাহ, তবে পৃথিবীর অনেক দেশেই এই সমস্যা ছিল মহামারী আকারে, দীর্ঘ মেয়াদী নানান উদ্যোগ ও স্বদিচ্ছায় অনেক দেশ সফলতাও অর্জন করেছে। দৈনিক আমরা অনেক গুলো ঘন্টা ঢাকার রাস্তায় ট্র্যাফিকে নষ্ট করি, এর বিকল্প সবার পক্ষে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে উঠে নাহ। অনেকেই প্রাইভেট কার বা উবার / পাঠাও ব্যবহার করলেও বেশির ভাগই লোকাল বাসেই অভ্যস্ত। আর আসলে সবার পক্ষে উবার বা পাঠাও ব্যবহার করাও সম্ভব নয়।

করোনা কালীন এই সময়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও করোনা লোকাল ট্রান্সমিশনের ভয়ে গণ পরিবহণ বন্ধ করা হয়েছে, আর পাবলিক বাস গুলোর সিটের অবস্থা আমরা সবাই কম বেশি জানি, একই সাথে ৩০-৩৫ সিটের বাসে মুটামুটি ১০০+ মানুষ আমরা উঠি বসে ও দাঁড়িয়ে গেদারিং করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাই, সরকার গণ পরিবহন খুলে দিলেও এই মহামারিতে গেদারিং বা চাপাচাপি করে বাসে উঠা খুবই হুমকি স্বরূপ, তাই বলে তহ জীবন থেমে থাকবে না, ব্যক্তিগত গাড়ি বা মটর সাইকেল থাকলে তো হলই তবে এর পাশাপাশি সাইকেলও কিন্তু বেশ ভালো ভূমিকা পালন করতে পারেন আপনার নিরাপত্তা ও কাজের গতি বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। আরও জানুন নিয়মিত সাইক্লিং এর উপকারিতা কি কি এখানে…

এক দিকে ট্র্যাফিক থেকে রক্ষা পাওয়ার ভাবনা, অন্য দিকে নিজেকে সুস্থ্য রাখা এই রকম ভাবনা থেকেই আমার ঢাকায় সাইক্লিং শুরু, এমন ভাবনা থেকেই গত ৫ বছর আগে হঠাৎ প্ল্যান করেছিলাম সাইক্লিং করবো, যেই প্ল্যান সেই কাজ, সাইকেল লাইফ এক্সক্লুসিব থেকে কিনেছিলাম শুরুর দিকে ১৬,৫০০/- দিয়ে মেঘনা গ্রুপের ভেলোসি ব্র্যান্ডের সাইকেলটি। যা এখন ঢাকায় আমার নিত্তদিনের সঙ্গী। ঢাকার এক স্থান থেকে অন্য যে কোন স্থানে খুব দ্রুত যাতায়েত করা সহ সময় বাঁচায় অনেক, একই সাথে ঢাকার ট্র্যাফিকও অনুভব করতে হয় নাহ, কারও সাথে গেদারিং নেই, করোনার এমন সময়ে নির্দিস্ট দূরত্ব বজায় রেখে মুভ করা সহ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা তো আছেই, মোট কথা এটি সহজ সমাধান।

অফিস, মিটিং, ইউনিভার্সিটি, কোর্স, ক্লাস, শপিং এমন কি দাওয়াতও যে ব্যাপারেই আমি সাইক্লিং করি, এতে করে আমার একটি রুটিনও হয়ে গেছে, আমি গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার সাইক্লিং করি, এতে আমার নিয়মিত ব্যায়াম আলাদা করে করতে হচ্ছে না, যেটি দরকার সেটিও হচ্ছে প্রতিদিন, সময়ও বেঁচে যাচ্ছে, ট্র্যাফিকে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না, নিয়মিত সাইক্লিং শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে (গবেষণায় বলা আছে), বেশ ভালো ঘুরাফেরাও করা যায় কাজের ফাঁকে, আর যদি শখ থাকে মোবাইল ফটোগ্রাফির তাহলে তো কথাই নাই। সবচেয়ে বড় যে ব্যাপার শরীরের ইউমিনিটি বাড়ে যা বর্তমানে করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বেশ কার্যক্রর ভূমিকা পালন করছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে করোনা ছোট বড় কাউকে মানছে না, বয়সও ফ্যাক্ট না, তবে যার শরীরের ইউমিনিটির পরিমান বেশি তার শরীরে এটি বেশি ক্ষতি করতে পারে না। তাই নিয়মিত শাক সবজী খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধী ও দিক নির্দেশনা মেনে শারীরিক ব্যায়াম, সাঁতার বা সাইক্লিং অবশ্যই জরুরী।

এখনই ভাবুন নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে, না হলে একটু বয়স হলেই হাসপাতালে অনেক গুলো সময় ও পয়সা ব্যয় করতে হবে, যা আমাদের কারোই কাম্য নয়, কারন দিন দিন খাবারে নানান ভেজাল আমাদেরকে নানান রোগ বালাইতে আক্রমন করিয়ে দিচ্ছে এবং নানান সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে, এর থেকে খুব সহজে মুক্তি পাব না আমরা কেওই, তাই সময় এখন সচেতন হওয়ার। এখনও যদি আপনার মধ্যে সচেতনা না কাজ করে তাহলে ঢাকার যে কোন একটি হাঁসপাতালে ৩০ মিনিট ঘুরে আসুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কত মানুষ কত সমস্যা নিয়ে হাঁসপাতালে হাজির, তাই সমস্যাকে পুঁজি না করে সমাধানের পথ খুঁজুন, নিজে সুস্থ্য থাকুন আর পরিবারকে সুস্থ্য রাখুন। দেরি কেন, শুরু করে দিন, নিজেকে সুস্থ্য রাখুন, নিজেকে ভালো বাসুন, অন্যকে সাহায্য করুন, দেখবেন জীবনটা সুন্দর হয়ে গেছে।

আর হ্যাঁ অবশ্যই হেলমেট পরতে ভুলবেন না সঙ্গে পানি রাখবেন। একটি ভালো তালা ও লক রাখবেন। ভালো একটি বেল এড করে নিবেন, নিয়মিত চাকায় হাওয়া আছে কিনা চেক করবেন এবং ব্রেক কাজ করছে কিনা দেখে নিবেন বের হওয়ার আগে। রঙ সাইডে সাইকেল চালাবেন না একই সাথে ঢাকার রাস্তায় হেড ফোন কানে দিয়ে সাইকেল চালাবেন না, মেইন রোড এড়িয়ে চলবেন।

স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে জেনে নিন আরও নানান তথ্যঃ


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me