নামাজের গুরত্ব ও সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা

Spread the love

নামাজ বেহেশতের চাবি। ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল হলো নামাজ। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাযের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক বা ফরজ। নামাজ ইসলামের পাঁচটি রুকুন বা স্তম্ভের মধ্যে একটি স্তম্ভ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকেই এটি প্রতিটি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর উপর ফরজ। ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজ ছেড়ে দেয়া শিরকের পর সবচেয়ে বড় গোনাহ

• আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেনঃ “সুতরাং দুর্ভোগ ওই সব নামাজীদের জন্য, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন!” (সুরাহ মাউন ৪-৫)

• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “কোনো ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে পার্থক্য হলো সালাত পরিত্যাগ করা।” (সহীহ মুসলিম)

• তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেনঃ “তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) মাঝে এবং আমাদের মাঝে চুক্তি হচ্ছে সালাতের, যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করবে সে কাফের হয়ে যাবে।” (আহমাদ, আবূ দাঊদ)

• ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।’ (মুআত্তা মালেক)

• প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ বিন শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ সালাত ব্যতীত অন্য কোনো আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে করতেন না।” (তিরমিযী)

নামাজের ওয়াক্ত ও রাকাত

সূত্রঃ বাংলা উইকিপিডিয়া

নামাজের ব্যাপারে কোন ছাড় নেইঃ

নামাজের হুকুম এতটাই কঠিন যে, কোনো মুসলিম যদি অসুস্থতার কারনে দাড়িয়ে নামাজ পড়তে না পারে তাহলে সে বসে পড়বে। তাও না পারলে শুয়ে শুয়ে পড়বে। যদি এমন হয় যে, সারা শরীর প্যারালাইসড হয়ে গেছে, তো ইশারায় পড়বে। মুখে উচ্চারনের শক্তি নেয়, তো মনে মনে পড়বে। কাপড় নাপাক আছে, আর অন্য কোনো কাপড়ও নেই, তাহলে যতটুকু নাপাকী লেগে আছে তা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ওই ভিজে কাপড়েই নামাজ পড়বে। আর যদি কাপড় ধোওয়ার মতও শক্তি না থাকে, তো ওই নাপাক কাপড়েই নামাজ পড়বে। কিন্তু নামাজ তাকে পড়তেই হবে! যদি সফরে থাকে তাহলে সংক্ষিপ্তভাবে নামাজ আদায় করবে, কিন্তু নামাজ তাকে পড়তেই হবে!

কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নামাজের ছাড় রয়েছে, যেগুলো হলোঃ
১. নাবালেগ।
২. পাগল।
৩. অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে। তবে জ্ঞান ফিরার সাথে সাথে নামায আদায় করতে হবে।
৪. ভুলে গেলে। তবে মনে পড়ার সাথে সাথে নামায আদায় করতে হবে।
৫. ঘুমন্ত অবস্থায়। তবে ঘুম ভাঙার সাথে সাথে নামায আদায় করতে হবে।
৬. মহিলাদের হায়েজ-নিফাসের সময়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যেখানেই সালাতের সময় হবে, তোমরা সালাত আদায় করে নিও। কেননা সমগ্র জমীন তোমাদের জন্য মসজিদ স্বরুপ।” [সহীহ বুখারী, হাদীসঃ ৩২৪৩]

“নিশ্চয় সালাত মু’মিনদের উপর ফরজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।” [সুরা নিসা: ১০৩]

নামাজ নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসাঃ

  • চেয়ারে বা দাড়িয়ে নামাজ পড়তে পারবো? – জ্বি পারবেন যদি আপনি দাড়িয়ে নামাজ পড়ার মত অবস্থা না থাকে।
  • গাড়িতে / লঞ্চে / বিমানে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়তে পারবো ? – জ্বি পারবেন ! সময় হলে / আজান দিলে / ওয়াক্ত সময় হলে পড়ে নিবেন।
  • জার্নিতে নামাজ পরে পড়া যাবে কি? – জ্বি যাবে, আর যদি নামাজ মিস হয় তাহলে জার্নির নামাজ বাসায় গিয়ে পরে পড়ার নিয়ম আছে, অনুসরণ করতে হবে।
  • তাহাজ্জুত নামাজ কখন পড়তে হয়? – উত্তম হলো যদি নিশ্চিত থাকেন যে, আমি ইনশা আল্লাহ শেষ রাতে নামাজ পড়ার জন্য উঠব, তাহলে নামাজকে বিতর দিয়ে বেজোড় করা। আর যদি যদি এশার সালাতের সাথে বিতর পড়ে থাকেন, তারপরও তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন, অসুবিধা নেই। 
  • তাহাজ্জুতের নামাজ কত রাকাত পড়ব ? – যত রাকাত পড়তে পারেন অসুবিধা নাই, নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদত, ২ রাকাআত করে নুন্যতম ৪ রাকআত পড়া উচিৎ, চাইলে ৪/৮/১২ রাকাত পড়তে পারেন
  • তাহাজ্জুদ নামাজ সুননত নাকি নফল ইবাদত? – নফল ইবাদত
  • এশার নামাজের বিতর মিস করলে নামাজ হবে? – বিতর নামাজ আদায় করতেই হবে, না হলে পুরো নামাজ আদায় হবে না।
  • শুকরিয়া আদায় করে নফল নামাজ পড়ার নিয়ম কি ? – সাধারণ নফল নামাজের মতই, ক্যাবলা মুখি হয়ে নিয়ত করে ২ রাকআত আদায় করবেন।
  • নামাজ ও অজুর নিয়ত আরবিতে পারি না কি করবো? – বাংলায় নিয়ত করুন।
  • কোন নামাজে কোন সূরা পড়বো ? – যে সূরা আপনি ভালো পারেন সে সূরা দিয়েই নামাজ আদাইয় করতে পারবেন, কোরআন তেলাওয়াত পারলে আরও ভালো
  • সহজ ও ছোট সূরা দিয়ে নামাজ পড়তে পারবো? – জ্বি পারবেন যা আপনি ভালো জানেন ও ভালো পারেন।
  • একসাথে সব নামাজ একবারে পড়া যাবে? – না, নিয়ম হচ্ছে ওয়াক্তের নামাজ ওয়াক্তের সময়ে পড়ে ফেলা, হেলামি করে কাজা নামাজ চিন্তা করা ঠিক হবে না।
  • পরিবার সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়তে পারবো? – জ্বি পারবেন।
  • সূরা শব্দ করে নামাজ পড়তে পারবো ? – জ্বি পারবেন নিয়ম অনুসারে

নামাজের ফরজসমূহঃ নামাজের ফরজ মোট ১৭টি। আহকাম ৭ টি। আরকান ৭ টি। নামাজের বাহিরের কাজগুলিকে আহকাম বলে। আর নামাজের ভিতরের কাজগুলোকে আরকান বলে।

আহকাম

  • শরীর পবিত্র হওয়া।
  • কাপড় বা বস্ত্র পবিত্র হওয়া।
  • নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া।
  • সতর ঢেকে রাখা।
  • কিবলামুখী হওয়া।
  • ওয়াক্তমত নামাজ আদায় করা
  • নামাজের নিয়্যত করা।

আরকান

  • তাকবীরে তাহরীমা (আল্লাহু আকবার) বলে নামাজ শুরু করা।
  • দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া।
  • সুরা ফাতিহার সাথে কুরআন পড়া।
  • রুকু করা।
  • দু্ই সিজদা করা।
  • শেষ বৈঠক করা।

শ্রেণিবিভাগ অনুসারে ফরয ছাড়া বাকি নামাজ গুলোকে ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল এই তিনভাগে ভাগ করা যায়।

ছবি ও তথ্যঃ গুগোল, সোশ্যাল মিডিয়া, নিউজ, ব্লগ ও বাংলা উইকিপিডিয়া


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me