ওজন কমানো ও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ওটস

Spread the love

ওটস আসলে নতুন কিছু নয়, আমাদের কাছে নতুন মনে হলেও হাজার বছর ধরে এই শস্যটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ওটস অত জনপ্রিয় খাদ্য না হলেও পশ্চিমা বিশ্বে এটি একটি বহুল পরিচিত একটি খাবার। বিশেষ করে তাঁরা সকালের নাস্তায় ওটস খেতে পছন্দ করে। তবে ইদানিং ডাক্তারদের পরামর্শে আমাদের দেশেও ওটসমিল এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাচ্ছে।

ওটস (Oats) | বৈজ্ঞানিক নামঃ Avena sativa

ওটস হল একটি খাদ্যশস্য যা মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাল ফলন হয়। এটা আসলে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হলেও গবেষনায় বলা হয়েছে এটি মানুষের সাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী একটা শস্য। ওটস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বুস্বাদু এবং পুষ্টিকর বিস্কুট, ব্রেড এবং কেক তৈরি হয়। এটি গম, যব এবং পায়রা জাতীয় উদ্ভিদ শস্য।

কি কি উপাদান আছে ওটসেঃ

ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, লৌহ, প্রোটিন, ভিটামিন বি। বিশেষত ওটসে রয়েছে ভিটামিন বি ১ যা শরীরে কার্বোহাইড্রেট হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া প্রতি গ্রাম ওটসে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, থিয়ামিন, ভিটামিন ই ইত্যাদি। যা অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবারের তুলনায় বেশি।

নিয়মিত ওটস খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায়ঃ

  • হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ওটস।
  • নিয়মিত ওটস আমাদের লিভারের জন্যও বেশ উপকারী।
  • ওটস বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদান যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • ওটসের বেটা-গ্লুকান শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ওটসের ফাইটোকেমিকল ক্যান্সার দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় ওটস।
  • ওটস কোলেস্টেরল লেভেল কমায়, কারন এতে বিদ্যমান ফাইবার লিপিড বা চর্বি কমায়।
  • একই সঙ্গে শুষ্ক, ফাটা আর খসখসে ত্বকের অধিকারীদের জন্য ওটসজাতীয় খাবার উপকারী।
  • কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের উত্স ওটসমিল, তাই কাজের উদ্দীপনা ও শরীরে শক্তি যোগাতে কাজ করে।
  • বাচ্চাদের বয়স ছয়/এক বছর হলে ওটস খাওয়ানো যেতে পারে, এতে শিশু বয়সের অ্যাজমা হ্রাস পায়।
  • লো ক্যালোরি ও সুগার ফ্রি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওটস খুবই উপকারী
  • গোসলের পানিতে ওটস মিশিয়ে গোসল করলে চুলকানি, অ্যালার্জি ও লালচে ভাব দূর হয়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: টমিল কিছু কিছু হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। যে সব হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে। ওটমিলের হোল গ্রেইন্স পোষ্ট-মেনোপজাল মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ওটসে রয়েছে ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট উপাদান যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি কার্যকর ভাবে ব্রেস্ট ও অন্যান্য হরমোন সম্পৃক্ত ক্যান্সার কে ধ্বংস করতে পারে। প্রতিদিন এক বাটি ওটমিল মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৪১% পর্যন্ত কমাতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

চিন্তা দূর করে: এটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। সেরোটোনিন হল এমন একটি হরমোন যা ক্ষুধা, ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। সেরোটোনিন থাকার  ফলে ওটস চিন্তা বা দুঃখ দূর কমাতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম গভীর ঘুমের জন্য দায়ী। ওটসে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম তাই এটি মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

ওটস কখন খাবেনঃ

  • সকালের নাস্তায় ওটস খেতে পারেন।
  • যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা চাইলে রাতেও ওটস খেতে পারেন।

ওটস কিভাবে খাবেনঃ 

  • সকালের নাস্তায় দুধ দিয়ে ওটস খেতে পারেন
  • সকালের নাস্তায় টক দই দিয়েও ওটস খেতে পারেন|
  • চাইলে দুপুরের প্রধান মিলে ভাতের বদলে ওটস সেদ্ধ করে নিতে পারেন।
  • ওটস দিয়ে খিচুড়ি বানিয়েও খাওয়া যেতে পারে সাথে সবজি মিক্স করতে পারেন।
  • স্ন্যাকস হিসেবে বিকেলে চা বা কফির সাথে ওটসের বিস্কিট, কেক খেতে পারেন।

ছবি ও তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট, গুগোল, জার্নাল পেপার, নিউজ, ব্লগ।


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me