ঢাকায় ট্র্যাফিক জ্যাম অনুভব করি না

দৈনিন্দিন জীবনে আপনি যখন কোন সমস্যা মোকাবেলা করবেন, যা অন্যের সাথে আলোচনা করে আসলে কোন সমাধান নেই, যেটার আসলে অনেক চেষ্টা করেও সমাধান হবে না / হচ্ছে না তখন বিকল্প চিন্তা ভাবনা শুরু করা জরুরী। যেমন আমাদের সবারই
দৈনিন্দিন জীবনে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ঢাকায় ট্র্যাফিক, যা আসলেই একটি মারাত্মক সমস্যা আমরা সবাই জানি, তাই বলে জীবন থেমে থাকবে নাকি আপনি থেমে যাবেন। অবশ্যই না, কোন কিছুই কারই থেমে নেই, অনেকেই অনেক ভাবে এর বিকল্প চিন্তা ভাবনা ইতি মধ্যেই করে নিয়েছেন, অনেকেই ভাবছেন কিভাবে কি করবেন।

আমি আমার একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যই আজকে এই লেখাটি লিখেছি আপনাদের জন্য। এই মারাত্মক ব্যাধি সমাধান করার জন্য অনেক বিকল্প ব্যবস্থা ও উদ্যোগ সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর মিলে নিলেও আসলে ব্যাপারটি এত সহজে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই আপনাকেই ভাবতে হবে এর বিকল্প সমাধান। যেমন ট্র্যাফিক জ্যাম এর একটি বিকল্প পথ আমি নিজে খুজে বের করেছি, যা যেমন সময় বাঁচায় তেমনি স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। বিশেষ করে আমরা যে/যারা অফিস ডেস্কে বসে কাজ করে অভ্যস্ত আমাদের নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা জরুরী, যা আমরা চাইলেও পারি না। আমরা ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে ২/৩ ঘন্টা হাতে নিয়ে বের হতে হয়, সময় মত পোঁছাবো কিনা তাও জানি না, আর নিয়মিত লং ট্রাম বসে কাজ করা ও ভেজাল খাদ্য, জাং ফুড, বাহিরের খাবার ইত্যাদির ফলে আমাদের দেখা দিয়েছে নানান শারীরিক সমসসাও। আর এর একটি সহজ সমাধান হচ্ছে সাইক্লিং…..ভেবে দেখুন !

আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, যেমন ঢাকা শহরে গত ছয় মাসে আমি লোকাল বাস অথবা সিটিং বাসে সব মিলিয়ে হিসেব করেছি আমি উঠেছি ১ বার, পারিবারিক বা অফিশিয়াল কাজে সিএনজি তে ২/৩ বার, রিক্সায় চড়েছি ৫/৬ বার, উবার ও পাঠাও ২/৩ বার 😀 বাকিটা পুরো সময়টা আমি সাইকেলে যাতায়েত করেছি, হোক সেটা ঢাকা শহরের যে কোন প্রান্তেই। আমি ভেলসির লিজিঅন ১০ সাইকেলটি ব্যবহার করি, কিনেছিলাম সাইকেল লাইফ এক্সক্লছিব থেকে, তখন নতুন এসেছিল মূল্য নিয়েছিল ১৬০০০ টাকা মনে হয়। দেখতে দেখতে সাইকেলের বয়স চার বছর। সাইকেলটি আমাকে খুবই ভালো সেবা দিয়েছে, কিছু টুকটাক রিপেয়ার ছাড়া মেজর কোন সমস্যা ফেইস করিনি।

মজার বিষয় হচ্ছে সত্যিই এখন আমার কাছে মনে হয় যে ঢাকায় আসলেই ট্র্যাফিক নাই 😀 আপনি জেনে অবাক হবেন যে, আমি আমার দৈনিন্দিন কাজের পাশাপাশি গত ছয় মাসে আমি যে পরিমান সাইক্লিং করে ঘুরেছি ঢাকার এই প্রান্ত ঐ প্রান্ত তা গত ৩/৪ বছরেও ঢাকায় এত ঘুরা হয় নাই 🙂 

কি করি নাই, আমার ইউনিভার্সিটির ক্লাস, শপিং, অফিস, কোর্স / ট্রেনিং, দাওয়াত, জরুরী প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ইত্যাদি ও অন্যান্য সব জায়গায়ই সাইকেল এখন আমার নিত্তদিনের সঙ্গী।

নিয়মিত সাইক্লিং এ কি কি উপকার পাবেনঃ

** সময় বাঁচায় (যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
** পয়সা বাঁচায় (যাতায়েতের খরচ)
** স্বাস্থ্য ভালো থাকে (ব্যায়াম হয়)
** ট্র্যাফিক এর জামেলা নেই (ট্র্যাফিক মুক্ত)
** ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে না (হেসেল নেই)
** প্রচুর ফটোগ্রাফি করা যায় (যদি আপনি ছবি তুলতে ভালোবাসেন)
** নিজের মত এ জায়গা ও জায়গা ঘুরে বেড়ানো যায় (নিজেকে সময় দেওয়া)
** নিয়মিত সাইক্লিং এ শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে (গবেষণায় বলছে)
** নিয়মিত সাইক্লিং এ শরীরের ব্যায়ামও নিশ্চিত হয় (ডাক্তারদেরও এখন পরামর্শ)

আমি এই রুটিনটি নিয়মিত করে যাচ্ছি এবং নিয়মিত করার ইচ্ছাও আছে, বাকিটা আল্লাহ্‌ ভরসা, তবে শুরুটা একটু কস্টকর হলেও নিয়মিত হয়ে গেলেই সেটা আসলে ভালো লাগারও একটা ব্যাপার হয়ে যায় 🙂 যেমন অনেকেই ভাবে কিভাবে শুরু করবো, এত দূর কিভাবে যাব, পারবো কিনা ইত্যাদি। আসলে মানুষ চাইলে পারে না এমন কিছু নেই। তাই বলবো আপনিও শুরু করে দিন, দিনে শেষে সময় সেইভ করুন আর সুস্থ্য থাকুন 🙂 আরও পড়ুন এই লিংকে…আমার আগের একটি লেখাতে…নিয়মিত সাইকেল চালালে কি কি উপকার পেতে পারেন

লেখকঃ আছিব চৌধুরী
এমএসসি, বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ



# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন – নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে ।


Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Google Site | Wikipedia | Instagram | Asive’s Blog

Email: ac.papon@gmail.com, Web: www.asive.me