একজন সফল আনোয়ার হোসেন

 

তিনি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে প্রথম প্রাইভেট ব্যাংক স্থাপনের কথা জানালেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে ! তিনি ১৯৮৮ সালে মোবাইল ফোন দেশে নিয়ে আশার প্রস্তাব দিলেন যার কারনে আজ মোবাইল টেকনোলজিতে অনেক এগিয়ে। তিনি এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন যে, আজকের কাজ আজকেই করুন যত দেরিই হউক কালকের জন্য রেখে দেওয়া যাবে না। সঙ্গীত প্রেমীও ছিলেন, বাংলা, হিন্দি, কাবালি গান শুনতে পছন্দ করতেন এবং একই সাথে গান গাইতেও ভালোবাসতেন। তাঁর এত দূর আসার গল্পের পেছনে দুই জন নারীর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে, একজন উনার “সহধর্মিণী” অন্যজন উনার “মা”। খাবারের ব্যাপারে সব সময়ই সচেতন ছিলেন, তৈলাক্ত খাবার, ঝাঁঝালো খাবার বা শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলতেন।

এত কিছুর মাঝেও যখন নিজের কর্মস্থলে / অফিসে যেতেন কখনও টাই পরা মিস করেননি, তাঁর মতে বিজনেসে লুকিং / ড্রেস কোডের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাপারে নিজেও যেমন সচেতন ছিলেন সবাইকে এই ব্যাপারে সচেতন করতেন। কারও ক্ষতি হউক এমন কোন কাজেই তিনি ছিলেন না বরং মানুষের খুব কাছে থেকে মিশেছেন, জেনেছেন এবং মানুষকে খুব ভালোবাসতেন ! একটা প্রিয় বাক্য ছিল উনার, কিনতে যদি না “ঠকো” তাহলে বিক্রিতে “জিততে” পারবে নাহ। ব্যবসায়িক জীবনের ব্যবসা সংক্রান্ত সকল ধরনের ক্রয় নিজেই/পরিবারের মাধ্যমেই করা হত। তিনি সব সময় মানুষের খুব কাছে থেকে মানুষের গল্প শুনার চেষ্টা করতেন, সমস্যা গুলো উপলব্দি করার চেষ্টা করতেন যাতে সমাধান নিয়ে ভাবতে পারেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন ব্যবসা করতে গেলে লস হবে এবং কাজ করতে গেলে ভুল হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হলেও অন্য কারও কাজে নাক গলাতেন না, বরং কাউকে কাজ দিয়ে তাঁর কাছ থেকেই আদায় করার চেষ্টা করতেন, সময় দিতেন কিন্তু শেখার সময় দিতেন, সব শেষে একদমই না বুঝলে সমাধানে সাহায্য করতেন। তিনি ভ্রমণ খুবই পছন্দ করতেন আর ভাবতেন “আমাদের বাজার হচ্ছে – আমাদের দেশ” তাহলে আমাকে তাঁদের (মানুষের) কাছে যেতে হলে ভ্রমণ করতে হবে এবং পন্য পোঁছাতে হলে চাহিদা/সমস্যা খুজে বের করতে হবে। তিনি ঢাকা চেম্বার অব কমার্সকে অনেকটা নিজের বাচ্চার মতনই মনে করতেন, কেও এক কাপের বেশি ২ কাপ চা খেলেই বলে বসতেন এই টাকা পয়সা সকল মেম্বারদের, হিসেব করে খরচ করতে হবে আমাদের সবার।

এই সাহসী ও কর্মঠ মানুষটি খুব কঠিন একটি রোগে আক্রান্ত হয়ে আছেন যেই রোগের নাম – “ডিমেন্সিয়া” যার এখনও ট্রিটমেন্ট / মেডিসিন নেই। তবে গবেষণায় একটি ভয়াবহ বার্তা পাওয়া যাচ্ছে যে বাংলাদেশে ২০২০-২০২২ সাল নাগাদ ৩০-৪০% লোক যাদের বয়স ৭০-৭৫ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ব্যক্তি জীবনে সব সময় রুটিন মেনে চলা ফেরা করতেন, প্রতিদিন ১৫-৩০ মিনিট বাসায়/বাহিরে হাটা-চলা করতেন কারন নিজের স্বাস্থ্য সচেতনার ব্যাপারে খুবই সজাগ ছিলেন। তাঁর প্রিয় কথা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, “অন্যকে পরাজিত না করেও নিজেকে জেতানো সম্ভব”! যখনই কোন বই/লেখা পড়তেন সেখানে “অসম্ভব” কোন শব্দ পেলে সেটা কলম দিয়ে কেটে দিতেন কারন তাঁর ব্যক্তি জীবনের “ডাইরিতে” এই শব্দের কোন স্থান নেই।

– ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কতৃক আয়োজিত “ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমী” লেকচার সিরিজের কথা মালা থেকে সংগৃহীত। আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ আনোয়ার হোসেন এর জীবনীর কিছু সৃতি চারন করেছিলেন পরিবারের সদস্যগণ।

 

আপনার যে কোন মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন।

Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Email: ac.papon@gmail.com, Website: www.asive.me