০৬০৮’র ২য় জন্ম-জয়ন্তী – ভালোবাসার সেই অসাধারণ দিনটি !

রাত থেকেই নানান চিন্তা সকালে উঠতে পারবো কিনা ! তাও সকাল ৬টা ৪৪ মিনিটে ঘুম ভাঙল, মিরপুরের বাস আর ধরতে পারবো না, এইটা শিউর হয়ে গেলাম। যদিও আমি ও আমার স্ত্রী ডাক্তার মাস্তুরা কাস্মীরী আমরা দুজনেই ০৬০৮ এর এবং দুজনেই ইভেন্টে জয়েন করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি, ফাইনালি ওর ব্যস্ততার কারনে যোগ দিতে পারেনি, তাই একাই চলে গেলাম প্রানের মেলায়। যাই হউক রাতেই নকশী আর শাকিল নক করেছে মতিঝিল থেকে উঠবে, আরমিনকে বললাম আমি মিরপুর থেকে উঠবো ! ও আমাকে বলল, ৭টায় বাস ছেড়ে দিবে। যাই হউক সিদ্ধান্ত নিলাম মতিঝিল থেকেই উঠবো, শাকিল এর সাথে গত ছয় মাস ধরেই প্ল্যান চলছে আমরা বসবো কোথাও বসাই হচ্ছে না, তাই ভাবলাম একসাথে গেলে আমাদের গল্প ও সাক্ষাৎ হয়ে যাবে।

যাই হউক সকালে উঠেই প্রেশ হয়ে বের হয়ে হেটে একটু সামনে গিয়ে সিএনজি কে ডাক দিলাম, সকাল সকাল ঢাকায় সিএনজি পাওয়া যায়। যাই হউক মিরপুর থেকে মতিঝিল এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সিএনজি থেকে নেমে হঠাৎ প্রকৃতির ডাকে (ছোট কাজ) সাড়া দেওয়ার কথা মাথায় আসতেই সিটি কর্পোরেশন এর দেওয়া মোবাইল টয়লেট চোখে পড়ল, দায়িত্বে থাকা খালা খিল খিল করে হাসা শুরু করল। যাই হউক প্রকৃতির ডাক সেরে নিলাম আর শাকিলকে মুঠো ফোনে নক দিলাম আর এর মধ্যেই হঠাৎ রুমান এর সাথে দেখা এমন ভাবে জড়িয়ে ধরল “বন্ধুত্ব” এটা শুধু বন্ধুরাই পারে অন্য কেও নয়, বাসের সামনে যেতেই কবি ইকবালের (স্কুল বন্ধু) সাথে দেখা, বলল আমার দায়িত্বে থাকা বাসে উঠ, বললাম অসুবিধা নাই, একটাতে উঠলেই হল।

নকশি এসে পৌঁছেছে দেখা হল ও শুভেচ্ছা বিনিময় হল, এর মধ্যে একে একে সবাই চলে এসেছে এবং বাস গুলো ভরে যাচ্ছে ০৬০৮ বন্ধুদের পদ যাত্রায়, এক এক করে বাস ভরে যাচ্ছে আর বাস ছেড়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে শাকিলের সাথেও দেখা হয়ে গেল, আমি ও শাকিল একটি বাসে উঠে বসলাম এর মধ্যে আমাদের বাসটি ভরে গেল এবং যাত্রা শুরু হল আর শাকিল এর সাথে উদ্যোক্তা বিষয়ক নানান গল্প শুরু হয়ে গেল। আর পাশের সিটের ০৬০৮ এর ভাই ব্রাদারদের হাসি, হাততালি ও গলা ছেড়ে গান কানে ভেসে আসছে, বাহিরে যেমন ঠাণ্ডা আশা করেছিলাম তেমন নেই। অহ বলে রাখা ভালো আমরা যাচ্ছি এসএসসি ২০০৬ ও এসএইচসি ২০০৮ এর সারা বাংলাদেশের প্রায় ৬১ জেলা থেকে আগত বন্ধুদের সাথে সারাদিন আড্ডা ও আনন্দ ভাগাভাগী করতে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা ভিলেজ রিসোর্টে। গল্প গুলো শুরু ফেইসবুকের ০৬০৮ স্টুডেন্টস অফ বাংলাদেশ এর গ্রুপ থেকে যেখানে প্রায় ৮৫০০০+ মেম্বার এবং সবাই ০৬০৮ এরই, বলা যায় বাংলাদেশের সেরা একটি পরিবার।

মেঘনা ভিলেজ রিসোর্টে পৌঁছানোর পর বাস থেকে নেমেই টিকেট বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ (একটা বিড়ম্বনা ছিল) সেখানে চমক দেখালো উত্তরা থেকে আগত ০৬০৮ টিম, ডাক-ডোল, তবলা আর বাদ্য যন্ত্রের তালে সবাই তাকিয়ে আছে ওদের দিকে, ওরা খুবই আনন্দে এবং নাচে গানে সবাইকে জানান দিয়েই রিসোর্টে প্রবেশ করল, সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল তাদের চমৎকার এই এন্ট্রি দেখে। এর মধ্যে টিকেট নিতে গিয়ে একটা ছোট্ট অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা সমাধান করে দিয়েছে অনিক, ওকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে প্রবেশ করালাম রিসোর্টে, কমলা কালারের টিশার্টে চেয়ে গেছে পুরো রিসোর্ট (সেই দিনের ০৬০৮ এর লোগো সহ টি শার্ট ছিল), ডানে বামে সামনে পেছনে সবাই এক কালারের টিশার্ট একই সাথে এটাই আমার জীবনের প্রথম কোন ইভেন্ট যেখানে ডানে বামে সামনে পেছনে সব তুই-তাই, মানে সবাই সম-বয়সী। হঠাৎ স্কুলের বন্ধু  শাখাওয়াতের সাথে দেখা, নাস্তা আনতে গিয়ে কাজের প্রেসারে আমাদেরই ০৬০৮ এর কিছু বন্ধুদের (আনোয়ার, নোমান রাসেল সহ অনেকেই) চেহারা দেখে মনে হল এমন কিছু পাগল বন্ধু থাকলে এই বন্ধন থাকবে যুগ যুগ ধরে। সারা রাত জেগে নানান কাজ করেও ক্লান্তির চাপ কাউকে বুঝতে না দিয়ে সবার দিকে হাসি মুখে দৃষ্টি যা সত্যি ভুলার মত নয়। 

নাস্তা করে সামনে এগুতেই চাঁদপুর কলেজের কিছু ভাই ব্রাদারদের সাথে দেখা, অমিত, ভিক্টর, হৃদয় জান্নাতুল ফেরদাউস সহ আরও কয়েকজন, অমিত এর হাতের ব্যাগ থেকে স্মরণিকা বের করে নিজের লেখাটা পড়লাম “০৬০৮ চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দিবে” স্মরণিকার ৩২ নং পাতায় আমার লেখাটি ছাপা হয়েছে, প্রায় দেড় হাজার বন্ধুদের কাছে লেখাটি পৌঁছে গেছে, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা নোমান রাসেল ও আশিকুর রহমান তমাল সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি, তারপর টিশার্ট নিতে গিয়ে বন্ধু নোমান রাসেল (০৬০৮ গ্রুপের ক্রিয়েটর ও এডমিন) ওরে একটা সালাম দিয়ে বললাম “প্রাউড অফ ইউ গাইজ” আমার টিশার্ট দে, হাঁসি মুখে আমাকে দিল, এরই মধ্যে দেখা হল আমিল নীল এর সাথে, ক্যামেরা হাতে নীল তখন পুরো অনুষ্ঠান নিয়ে ভিডিও ব্লগ বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে।

আমারও একটি ইন্টার্ভিউ শট নিয়েছে সেই ভিডিও ব্লগে, যেখানে উদ্যোক্তা নিয়ে দু-একটি টি কথা বলেছি। এর  মধ্যেই দেখা হল মোঃ শফিউল এর সাথেও স্বপ্ন সেল নিয়ে কাজ করছে, উদ্যোক্তা বিষয়ক বেশ কিছু কথা হল, দেখা হল রিপন মল্লিক এর সাথে নিজেও উদ্যোক্তা আবার উদ্যোক্তাদের “উদ্যোক্তালয়” নামক সংগঠন নিয়ে  কাজ করছে, কেপি হাসানের সাথে অনেক দিন পর দেখা, উদ্যোক্তা যুদ্ধে নেমে গেছে, মিরাজ উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টায় কাজ করছে বিজনেস এর পাশাপাশি, অভির সাথে দেখা কক্সটুডে ছিল এখন লেক শর এ আছে কার্ড দিল, শাকিল সহ আমরা একটু ঘুরছিলাম এই দিক সেই দিক।

এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আয়োজন, স্টেজে তখন আরজে রাজভী  আর আরজে শান কথা বলছে। একটু পরই ব্রড কাস্ট জার্নালিস্ট আশিকুর রহমান তমাল এবং মনোবিজ্ঞানী অরনী জাহান স্টেজে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সঙ্গীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সুচনা করে দিয়েছে, গত ২ বছরে আমাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের উদ্দেশ্যে দাড়িয়ে ২ মিনিট নিরবতা পালন, তারপরই কেক কাঁটা, এডমিন প্যানেল পরিচিতি, আয়োজক কমিটি পরিচিতি, আকাশ থেকে ড্রনের মাধ্যমে ছবি নেওয়া, ০৬০৮ ব্লাড লিংক পরিচিতি, স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন সহ পুরো অনুষ্ঠানের একটা সামারি শেয়ার করা হয়েছে।

এর মধ্যে অনেকেই সেলফি, আড্ডা, গল্প, গান, চা-কফি খাওয়া, ছবি তোলা, নুডুলস খাওয়া সহ যে যার মত করে জীবনের সেরা সময় গুলোর খানিকটা এখানে কাটাচ্ছিলেন। শুরু হল খেলা ধুলা, ঘুরা ফেরা, ছবি তোলা, পুরো আয়োজনের ফটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিল বন্ধু আবু সুফিয়ান নিলোভ এর নিজল ক্রিয়েটিভ, একদিকে মেয়েদের চামছ খেলা, বালিশ খেলা অন্য দিকে ছেলেদের ঝুড়িতে টেনিস বল ফেলার খেলা।

খেলার শেষ হওয়ার পর পরই আজান ও নামাযের বিরতি একই সাথে দপুরের খাবার বিরতি, একটা অনুষ্ঠানের খাবার পরিবেশনা এবং খাবার এত সুস্বাদু ও সুন্দর হতে পারে তা এই ইভেন্টে আরও একবার দেখা গেল, সুন্দর আয়োজন আর সুন্দর ০৬০৮ ব্র্যান্ডিং তাজ এর প্ল্যাস্টিক ভাটি, মাছ আর পিন্নিটা ছিল অসাধারণ। কচুয়ার সাচারের বন্ধু আনোয়ার আগের রাতেই খাবারের আয়োজন এর ছবি তুলে ফেইসবুকে আপ করেছিল তা থেকেই আন্দাজ করেছিলাম। খাবার টেবিলে তামান্নার সাথে অনেক গল্প হল উদ্যোক্তার জীবনের, তামান্না কাজ করছে আড়ঙ্গ নিয়ে, খাওয়া শেষে একটু হেঁটে ফিরে আবার স্টেজের পাশে বসলাম কিছু সেলফি নিলাম, দাঁতের চিকিৎসক এনাম এর সাথে কথা হল চায়ের দাওয়াত দিল চেম্বারে, ০৬০৮ গ্রুপে উদ্যোক্তাদের নিয়ে আমি লিখি নিয়মিত গ্রুপে এবং আমার নিজের ব্লগেও www.blog.asive.me, এছাড়াও আমরা ০৬০৮ উদ্যোক্তাদের এক করার জন্য “০৬০৮ উদ্যোক্তা হাব” নামে আমাদের একটি ছোট্ট আড্ডা (চ্যাট) ফেইসবুক গ্রুপও আছে, যাই হউক খুব শীঘ্রই আরও কিছু ০৬০৮ বন্ধুর উদ্যোক্তার জীবনের গল্প শেয়ার করবো এক এক করে এই ভাবনা থেকেই উদ্যোক্তা বন্ধুদের সাথে নানান গল্প করা, দেখা হল ডাক্তার রায়হানের সাথে, চমৎকার একজন মানুষ। অনেক বন্ধুর নাম জানা অজানা হাই হ্যালো ছবি তোলা এই সব চলছেই, সবাই বন্ধু আলাদা করে ব্যাখ্যা করা কঠিন সেখানে। গাফফার রাসেল বলছে তোর খবর আছে, খেতে বসেই সেলফি নিয়েছিলাম। স্টেজের পাশে জুয়েলের করুণ অবস্থা দেখে আমি নিজেই গিফট আইটেম আর ক্রেস্ট গুলো সাজানোর কাজে হাত দিলাম এই দিকটা নজর দিলাম। এটা আসলে দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, দায়িত্ব সব সময় দিতে হয় না বা অপেক্ষা করতে হয় না, কিছু কিছু দায়িত্ব নিজে নিজে নিয়ে নিতে হয়।

একে একে শুরু হল ০৬০৮ শিল্পীদের এবং বাহিরে থেকে আগত অতিথি শিল্পীদের গান, নৃত্য পরিবেশনা, কবিতা আবৃতি, শিশু নৃত্য, রকিং ডান্স, সন্ধ্যা হয়ে রাত তখনও চলছে ধামাকা সব সাংস্কৃতিক আয়োজন, এর মধ্যে কাতার থেকে ২ জন বন্ধু এসেছে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং শিপন সহ তারিন এর সাহায্য (চেক হস্তান্তর) নোমান গ্রহণ করলেন গ্রুপের পক্ষ থেকে, এর মধ্যে মোডারেটর সাব্রিনা জানান দিল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে, আরও একটি বন্ধু ইউকে থেকে এসেছে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য এটা আসলেই সহজ কথা না। এরই মধ্যে যে/যারা অনুষ্ঠানে স্পন্সার করেছে সবাইকে ক্রেস্ট প্রদান সহ যে/যারা অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার তাদের নাম স্মরণ, ফানস উড়ানো, বেলুন ফুটানো, ফটকা ফোটানো, আকাশে ফায়ারক্স, লটারি ড্র (৫২ জন পুরস্কার পেয়েছে) সহ নানান আয়জন চলেই যাচ্ছে, অহ হ্যাঁ বলে রাখা ভালো আমি নিজেও একটি লটারি গিফট পেয়েছি, যা পরবর্তীতে অনিক এর অফিস থেকে গ্রহন করেছে নোমান রাসেলের সহযোগিতায়। আবু হেনার ভাইয়ের চমৎকার সব রঙ ডং কথা আর শিল্পীদের গানের রেওয়াজ ০৬০৮ বন্ধুদের রক্কিং ড্যান্স কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম সব কিছুর মধ্য থেকে, মনে হয়েছিল সেই স্কুল জীবন সেই হিসাব কিতাব বিহীন জীবন, এমন দিন খুব কম আসে জীবনে। সব গুলো আয়োজনের মধ্যে একটি অসাধারণ আয়োজন ছিল ০৬০৮ এর থিম সং, যার জন্য রাকিব কে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা, ও দারুন গান হায়, যে কোন আয়োজনে বা আড্ডায় গরম করে ফেলে গান ও নাচে। আই জাস্ট লাভ ইট।

শেষ হয়েও হইল না শেষ, আসলেই শেষই হচ্ছে না, সময় নিয়েও মাথা ব্যথা নাই, সময় কিভাবে শেষ হয়ে রাত হয়ে গেল টেরই পাইনি। এর মধ্যে আরজে শান মাইকে এনাউন্সমেন্ট দিয়েছে বিদায় হওয়ার সময় হয়েছে আমাদের ,অনুষ্ঠানও প্রায় শেষ, সবাইকে বাসের দিকে মুভ করতে বলা হয়েছে। মনে হচ্ছিল এত দ্রুত সময় ফুরিয়ে গেল, আসলে ভালো লাগার সময় গুলো খুব দ্রুত ফুরায় বলে একটা কথা আছে না, ঠিক তাই হয়েছে সেই দিন। আরমিন সহ বাসের দিকে এগিয়ে গেলাম, বাসে সবাই উঠার পর পরই বাস ভরে গেল, এর মধ্যেই বাস ছেড়ে দিল গন্তব্যের দিকে অর্থাৎ মেঘনা ভিলেজ থেকে থেকে মিরপুরে, আর কি এখানেও জমে গেল আরেক আড্ডা, পুরো পথে দাঁড়িয়ে এসেছি ঠিকই কিন্তু ক্লান্তি মনে হয়নি, কত কত গল্প আর ঠাট্টা সময় কেটে গেল, মডারেটর তাপশীর অবস্থা খারাপ ঠাণ্ডায়, রুমান ঘুমিয়ে গেছে অন্য একজনের কাঁধে, চোখে মুখে সবার ঘুম আর ক্লান্তির চাপ, আরমিন এর বাচ্চাটা দুষ্টমি করছে আমার সাথে, কেও কেও এখনও গান ধরেছে, কেও কেও সারাদিনের নানান কথা বলছে, কেও কেও হাত তালি দিচ্ছে, কেও কেও বাহিরে তাকিয়ে আছে, কে কেও সিটের দিকে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, কেও কেও মোবাইল দেখছে, কেও কেও ফেইসবুকে ছবি আপলোড করছে, হয়তো কেও কেও স্ট্যাটাসও দিচ্ছে, কেও কেও সারাদিনের স্মৃতি চারন করছে, ক্লান্তি মাখা মুখ গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এভাবেই দেখতে দেখতে রাত প্রায় সাড়ে ১০ টার মধ্যেই পৌঁছে গেছি বাসায়।

একটা ফ্রেশ গোসল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে (এমন নাচানাচির পর গরম পানির দরকার হয় না আমার মনে হয়েছে) তারপর বিছানায় গভীর ঘুম আর সকাল সকাল “OPEN COMMUNICATION” (নিজের স্টার্টাপ) অফিসে চলে এলাম সময় মত, অফিসে এসেই আগের দিনের সেই স্মৃতি গুলো নিজের ব্লগে লিখে ফেললাম চট করে, লেখা লেখির অভ্যাস সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই, প্রথম আলো সহ আরও বেশ কিছু পত্রিকায় লেখার হাতে খড়ি, এর পাশাপাশি নিজের ব্লগে লেখা, তাই লেখা ও স্মৃতি যাতে না হারিয়ে যায় লিখে রাখলাম। ঠিক পরের দিনই পারিবারিক একটি পিকনিকে অফিস শেষে জয়েন করেছি, পরিবারের সবার সাথে সারাদিনের নানান গল্প করলাম, অনুষ্ঠান থেকে থেকে পাওয়া ০৬০৮ লোগো যুক্ত গিফট গুলো দেখালাম, যদিও আমার স্ত্রী মিস করেছে তবে গিফট গুলো পেয়ে খুবই খুশি হয়েছে কেন না সেও তো ০৬০৮ পরিবারেরই একজন, ধন্যবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলকে যে/যারা এই চমৎকার আয়োজনের পেছনে ছিল।  আহা এই তো জীবন, জীবন যেখানে যেমন ! নিজের ভালো লাগার কাজটি করুন, নিজেকে সময় দিন, অন্যকে সাহায্য করুন। আর হ্যাঁ পরিশেষে একটা কথা না বললেই গল্পটি শেষ হবে না, অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে আমাদের বিন্দু মাত্র চিন্তা করতে হয়নি, আমাদেরই ০৬০৮ বন্ধু ইমরান ও তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে চমৎকার ভাবে ডিল করেছে।

শেষে বলছি, এই আয়োজনে যে/যারা নানান কারনে জয়েন করতে পারোনি, বলছি জীবনের এই ছোট অধ্যায়ের সেরা একটা মিস করেছো, আশা করছি সামনের কোন আয়োজনে জয়েন করবে। যে কোন আয়োজনে অনেক গুলো সফলতার মাঝে কিছু ছোট ছোট ভুল থাকবেই, সেই গুলো পজেটিভ ভাবে  দেখে এগিয়ে যেতে হবে। চমৎকার এই আয়োজনের আয়োজকদের সবাইকে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

  • ইঞ্জিনিয়ার আছিব চৌধুরী
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ওপেন কমিউনিকেশন
  • www.opencom.xyz

লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me