করোনা কালে বাংলাদেশ ও চাকরি বাজার এবং শিক্ষা- স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

কি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি তা আসলেই ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। প্রায় ২ লাখ আক্রান্ত এবং প্রায় ২ হাজারের মতন চলে গেছেন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনার মহামারীতে। বাস্তবতা খুবই কঠিন যা আমরা শুনেছি এত দিন এখন চোখের সামনে দেখতে পারছি। অনেক কিছুই ঘটবে যা আমরা আগে ভাবিনি, আবার এর বিপরীতও হতে পারে, সবই উপর ওয়ালার ইশারা এবং আমাদের চেষ্টা। যে গল্প বলছিলাম

কিণ্টার গার্ডেন, স্কুল ও কলেজ কিণ্টার গার্ডেন, স্কুল ও কলেজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ! গত ২-৩ দিন ধরে বেশ কিছু নিউজ দেখলাম, স্কুলের ফার্নিচার সহ পুরো সেটাপ বিক্রি বা বন্ধ করে দিচ্ছে, চ্যানেল ২৪ এর নিউজে দেখলাম এমন একটি নিউজ সরাসরি। আসলে ১-২ টি নয় এমন ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটছে আরও ঘটবে, স্কুল বন্ধ, ছেলে মেয়েরা স্কুলে আসছে না, বেতন নেই তারমানে প্রতিষ্ঠানও চলবে না বা চলছে না। এই নিয়ে সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ কিন্টারগার্ডেন কঠিন পরিস্থিতির শিকার আর সেই সাথে ১০ লাখ পরিবার যে/যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট আছেন।

প্রাইভেট / বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অন্য দিকে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনলাইনে ক্লাস ও অনলাইনে এক্সাম নিয়ে সেমিস্টার ফি’র এর জন্য তাগাদা দিচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের, তবে সুবিধা হচ্ছে অনলাইনে এক্সাম এর ফলে খুব সহজে ভালো সিজিপিএ নিয়ে বের হয়ে যাবে ছেলে মেয়েরা, তবে সমস্যা হচ্ছে সামনের দিন গুলোতে…এমন শুনা যাচ্ছে এবার তো ভর্তির জন্য পরীক্ষাও থাকবে না, যে যার মত ভর্তি হতে পারবে টাকা থাকলেই বরং বেশ কিছু ছাড় ও অফার দিয়েই ছাত্র-ছাত্রী নিবে যদিও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গুলো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

বাসা ভাড়া ও বাড়িওয়ালা আজকে এক বন্ধু ফোনে জানালো গত ১/২ বছর রান করা স্কুল ওদের বাসা থেকে ২ দিনের নোটিশে না বলে স্কুলের সব মালামাল বিক্রি করে চলে গেছে ১ মাসের ভাড়া বাকি রেখেই প্রায় ২ লাখ টাকা, কই থেকে ভাড়া দিবে, কিভাবে দিবে ! কবে স্কুল খুলবে, কবে ছাত্র-ছাত্রীরা আসবে কে জানে। স্কুলের ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন ভাতা সহ স্কুল পরিচালনার খরচ এই সব কে সামাল দিবে। ইতিমধ্যে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের জিনিস পত্র ফেলে দিয়েছেন বা আটকে রেখেছেন ভাড়া না পেয়ে, অন্যদিকে ভাড়া দিতে না পেরে সব কিছু রেখে রাতের আধারে বিদায় হয়েছে ঢাকা থেকে। কেন না ঢাকায় ৯০ শতাংশ বাড়ীওয়ালা বাসা করেছেন ব্যাংকের ঋণ নিয়ে আর বেশির ভাগ তাও ৬৫ ভাগ বাড়ীওয়ালা ভাড়ার টাকায় সংসার চালান। অন্য দিকে ছাত্র ছাত্রী হিসাবে মেস / হস্টেল / ভাড়া বাসা এমন কি ছোট পরিবার বড় পরিবার চাকরির সুবাধে হলেও ভাড়া বাসা ছাড়া উপায় নেই, অনেকেই ইতি মধ্যে পরিবার গ্রামে রেখে নিজেরা মেসে উঠেছেন।

এই অনলাইন পরীক্ষা দিয়ে নতুন প্রজন্ম বের হবে, তারপর কি করবে?

ব্যাংকিং খাত – সিটি ব্যাংক ছোট্ট একটি উদাহরণঃ সিটি ব্যাংক অফিশিয়ালি ঘোষণা দিয়েছে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মানে ২০২২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত নতুন কোন ব্রাঞ্চ খুলবে না, নতুন এসেট কিনবে না, স্টাফদের বেতরের ১০% কাটা, নতুন প্রোমোশন / গিফট / বোনাস / ইনক্রিমেন্ট সব বন্ধ ২০২২ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত। যেহেতু নতুন ব্রাঞ্ছ নেই তাই নতুন সার্কুলারও বন্ধ ২ বছর…এটা শুধু মাত্র ১ টা উদাহরন ! অন্যান্য ব্যাংকের খবরাখবরও হয়তো শীঘ্রই প্রকাশ পাবে অফিশিয়ালি।

সরকারী চাকরি এর মধ্যে সার্কুলার কমে গেছে, আগামী ২-৩ বছর জব সার্কুলার কম হবে, সরকারী নানান প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সকল ব্যাংক কে ব্যয় কমানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অনুষ্ঠান করা, নানা আয়োজন করা, ডেকোরেশন ইত্যাদি অর্থাৎ খরচ কমানোর জন্য যা যা করার দরকার বলা হয়েছে।

উদ্যোক্তা বান্ধব সমাজ অণ্য দিকে দেশে উদ্যোক্তা তৈরির যে একটা (হাইফ) চলছিল গত ২-৩ বছর, মানে (যে বা যারা উদ্যোক্তা তৈরি করছেন তিনারা নিজেরাই জব করতেছেন) এবার কোন ট্রেনিং বা লাইভ বা সেমিনার বা ওয়ার্কশপ ছাড়াই উদ্যোক্তা তৈরি হবে এটা শিউর, আর একটা বড় সুযোগ হচ্ছে আধুনিক কৃষিতে কৃষিতে তরুণরা, আধুনিক কৃষি ও উদ্যোক্তা এখানে পড়ে ফেলা যেতে পারে।

অনলাইনে শিক্ষা ও স্কিল পজেটিব দিক হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা সবই এখন অনলাইন মুখী হচ্ছে এমনকি ব্যবসা বাণিজ্য এর বড় অংশ। অফলাইন বিজনেস এর একটা বড় অংশ অনলাইনে মুভ করছে। অযথা খরচ কমছে, মানুষ কঠিন সময়ে একে অন্যের পাশাপাশি দাঁড়ানোর মনোভাব তৈরি করছে। স্কিল উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে, পরিবারকে সময় দিতে পারছে, অনেক অফিস রিমোট সেটাপ করে ফেলছে, গুগোল ও টুইটার এবং ফেইসবুকের মত প্রতিষ্ঠান আগামী ২-৩ বছর বাসা থেকেই কাজ করতে বলছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ব্যয় কমানোর বিষয় মাথায় রেখে।

জব মার্কেট এবং পরবর্তী ভাবনা তরুণদের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে এবং আসছে তাই এই সময়ে করোনার জব মার্কেট পরিস্থিতি ও পরবর্তী ভাবনা জেনে নিয়ে আগাতে হবে একই সাথে নিজেকে সামনের দিনের জন্য প্রস্তত করতে হবে। করোনার এই সময়ে বাসায় বসে না থেকে একটু জালাই করে নেওয়া উত্তম নিজেদের স্কিল ও সামনের দিকের পথ চলার সুত্র গুলো JOB ইন্টারভিউ টিপস, কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন এখানে দেখে নিতে পারে কিছু টিপস বা দিক নির্দেশনা।

প্রবাসীর চিত্র প্রায় ২-৩ লাখ প্রবাসী তহ বিমানের অপেক্ষা করছেন দেশে ফিরে আসার জন্য, কেন না চাকরি হারিয়ে ফেলেছেন এর চেয়েও অনেক বেশি, কারন মিডেল ইস্ট দেশ গুলোতে কাজ বন্ধ, অন্য দিকে আকামার মেয়াদ শেষ, নতুন আকামা নবায়ন করা ব্যয়বহুল ও কঠিন। মালেশিয়ায় বিদেশীদের বাদ দিয়ে কম খরচে নিজেদের দেশের কর্মী নিয়গ শুরু হয়েছে। কানাডা বা আমেরিকার মতন দেশ হয়তো মোকাবেলা করতে পারছে কারন উন্নত দেশ। সুইডেন এর মত দেশে কোন ধরনের লক ডাউন দেওয়া হয়নি, সে দেশের প্রধান সবাইকে উৎসাহ দিয়েছেন যে তোমাদের শরীরের রোগ জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার জন্য অণ্য দিকে জাপান তাদের দেশে বাংলাদেশ থেকে নাগরিক প্রবেশ বন্ধ রেখেছেন, শুধু জাপান নয় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এখন কাজের জন্য হউক আর ঘুরার জন্য হোক রুট বন্ধ আছে…

বাংলাদেশের চিত্র ধারনা করা হচ্ছে ৬০ শতাংশ জব লেস (চাকরি হারাবেন) বাংলাদেশে, আর একটি গবেষণায় বলছে বিশ্বের এশিয়ার দেশ গুলো সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উন্নয়নশিল দেশ হিসাবে একটাই ভরসা আমাদের, কৃষিতে বিল্পব ঘটানো, আগে যেমন আমদানী নির্ভর ছিলাম এখনও যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে কঠিন সময় সামনে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা করোনায় আক্রান্ত হলে নিজের চেষ্টা ছাড়া রক্ষা নাই, কারন এমন সুযোগ সুবিধা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় খুব কম আছে আমরা জানি, ইতিমধ্যে ৪০+ প্রফেসর লেভেলের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, আরও অনেকেই পথে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা আরও করুন আমাদের, একজনের আইসিউ বিল এসেছে ৩২ লাখ টাকা করোনায় আক্রান্ত হয়ে, মানে উনি অলরেডি মরে গেছেন, বেঁচে ফিরলেও খুব একটা সুবিধার করতে পারবেন না। ভ্যাকসিন সময় সাপেক্ষ ৬ মাস বা ১ বছর অপেক্ষা করতেই হবে। সচেতনার কোন বিকল্প নাই।

মানসিক সমস্যা কি করবেন এই সময়ে করোনায় নিজেকে স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে দীর্ঘদিন এমন ঘর বন্ধিতে আমরা কেওই অভ্যস্ত না, তাই অনেকেরি কম বেশি সমস্যা হচ্ছে তাই নিয়ম গুলো অনুসরণ করা সবার জন্যই ভালো হবে। আর করোনায় আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধে কি কি খাবেন ও কি কি করবেন জেনে রাখা নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য ভালো।


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me