সুখী হতে হলে কি কি করতে হবে

সুখী হতে হলে প্রথম শর্ত হচ্ছে সুস্থ্যতা, শরীরের সুস্থ্যতা অত্যান্ত জরুরী, শরীর সুস্থ্য রাখার কোন বিকল্প নাই, আপনি যাই করেন না কেন, নিয়মিত সকল কাজের পাশাপাশি সাইক্লিং / হাঁটা / দৌড় / হাঁটা / সাঁতার যে কোন একটি দৈনিন্দিন রুটিনে রাখুন, অন্যথায় একটা সময় গিয়ে হাই ব্লাড প্রেসার / ডাইভেটিস সহ নানান রোগ এর সন্ধান দেখা দিবে আপনার শরীরে, তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। আপনাকে বলা হচ্ছে না যে জিমে জেতেই হবে বা না খেয়ে ডায়েট করতে হবে, শুধু বলা হচ্ছে নিয়মিত সকল কাজের পাশাপাশি যে কোন একটি পিজিকেল মুভমেন্ট জরুরী, যা আপনাকে সুস্থ্য রাখবে এবং মানসিক ভাবেই চাঙ্গা রাখবে, কর্ম ক্ষেত্রে কাজের গতি বাড়বে একই সাথে সব কিছুতে একটা রিফ্রেশমেন্ট থাকবে, এখন হয়তো ব্যাপারটা অনুভব করা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর, কিন্তু একটা সময় গিয়ে দেখবেন আসলেই করা উচিৎ ছিল অনেক আগে থেকেই, এর অনুভূতি খুব সহজে পাবেন যদি কাছের কোন হসপিটালে গিয়ে ১০-২০ মিনিট ঘুরে আসেন, মানুষের কত ধরনের যন্ত্রণা, কষ্ট আর রোগ বালাই। পড়ুন করোনার সময়ে হউক বিকল্প যানবাহন সাইকেল সকাল / বিকাল দেখবেন ৪৫+ বছরের মানুষজন কিভাবে অয়ার্ক আউট করছে, ব্যায়াম করছে, ওজন নিয়ন্ত্রনে নানান কাজ করছে, এই রকম পরিস্থিতির স্বীকার হতে না চাইলে আজই শুরু করে দিন, শুরু করবো করবো করেই আমাদের বেশির ভাগ জনের শুরুই করা হয় না, তাই যা ভাবছেন আজ, আজ থেকেই শুরু করে দিন, কাল পরশুর জন্য অপেক্ষা করবেন না।

পিজিকেল এক্সারসাইজ – সাইক্লিং / হাঁটা / দৌড় / হাঁটা / সাঁতার কোনটি করবেন?

যে কোন একটি, অর্থাৎ আপনার যেটি ভালো লাগে এবং যা আপনার পক্ষে সম্ভব, কেন না যান্ত্রিক জীবনে আমরা অনেক কিছু চাইলেও সময় ও অন্যান্য কারনে পারি না, তাই নিজের মত করে যে কোন একটি পিজিকেল মুভমেন্ট সিলেক্ট করে নিন। আরও পড়ুন নিয়মিত সাইক্লিং এ কি কি উপকার মনে রাখবেন শুধু এক্সারসাইজ করলেই হবে না, পরিমান মতন খাবারে আমিষ, প্রোটিন এর পরিমান মেনে খাওয়া দাওয়া করবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি খাবেন এক্সারসাইজ ছাড়াও যখন সময় পাবেন, এক দম সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি খেতে পারেন, আর সারাদিনের কাজের ফাঁকে চিনি ছাড়া রং চা / কফি খেতে পারেন।

খাবার রুটিন বা বেসিক নিয়ম

আপনি আপনার পছন্দের খাবার খান অসুবিধা নেই, তবে খাবারে বাহিরের খাবার ও তৈল জাতীয় খাবার গুলো কমিয়ে দিন, সবুজ শাক সবজির পরিমান বাড়িয়ে দিন, মাছ, মাংস, ডিমও মেন্যুতে রাখুন তবে পরিমানে কম, সম্ভব হলে প্রতিদিন একটি করে ডিম খান, মাছ মেন্যুতে রাখতে পারেন নিয়মিত, প্রতিদিন অন্তত একটি শাক / সবজি রাখুন, তিন বেলা ভাত না খেয়ে এক বেলা রুটি / ফল রাখতে পারেন। সকালের নাস্তা ভুলেও মিস করবেন না, দুপুরে একটু বেশি খান, আর রাতের খাবারের পরিমান কমিয়ে দিন, যত দ্রুত সম্ভব ৯ টার আগে রাতের খাবার সেরে ফেলুন, আপনি জেনে অবাক হবেন যে, চাইনিজ রা রাতের ডিনার ৭ টার আগেই সেরে ফেলে, তারপর অয়ার্ক আউট / হাঁটা, টিভি দেখা ও ঘুম, সকাল সকাল আবার উঠেই কাজের জন্য তৈরি হয়ে যায়। খাবারের আয়োজনে ফল মূল রাখুন।

বাহিরের খাবার বাদ দিন

যথা সম্ভব বাহিরের খাবার পরিহার করুন, এতে আপনার যেমন সাশ্রয়ী হবে একই সাথে সুস্থ্য থাকবেন, কে কিভাবে নিল এই ব্যাপার না ভেবে নিজের যত্ন করুন, দিন শেষে আপনার শরীর খারাপ হয়ে গেলে আপনিই সাফারার হবেন, তখন পাশ থেকে শুধু অনেকেই আফসুস করবে, তাতে আপনার কোন লাভ হবে না। হ্যাঁ মাঝে মধ্যে একা বা পরিবার মিলে বাহিরে খাবেন অসুবিধা নেই তবে বার্ন করতে হবে, অর্থাৎ খাবেন আবার যাতে হেটে বা সাইক্লিং করে বার্ন করতে পারেন। একদম প্রয়োজন না হলে বাহিরের খাবার খাবেন না, সহজ কিছু খাবার রেডি করার প্রক্রিয়া জেনে রাখুন, জানুন কিভাবে খুব সহজে বাসায় সবজি খিচুড়ি ঝট পট করে খেতে পারেন

পরিবারকে সময় দিন ও সচেতন করুন

শুধু আপনি নিজে সচেতন হলেই হবে না, আপনি আপনার পরিবারকেও সচেতন করুন এই ব্যাপারে, কেন না পরিবারের কেও একজন যদি অসুস্থ্য হয় তাহলে মানসিক ভাবে আপনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাই সবাইকে সুন্দর রুটিন লাইফে নিয়ে আসার জন্য আহবান করুন, পরিবারকে সময় দিন, কথা বলুন, আড্ডা দিন, হাসি তামাশা করুন, একসাথে খাওয়া দাওয়া করুন, বেড়িয়ে আসুন কোথাও থেকে, অর্থাৎ পরিবারের সাথে সম্পর্কটা মজবুত রাখুন, বাবা ও মায়ের প্রতি খেয়াল রাখুন, তাদের খোঁজ খবর নিন, দোয়া নিন যখনই সময় পান, স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা গুলো সঠিক ভালো পালন করুন, সবাই মিলে সুস্থ্য থাকুন।

ফ্রীল্যান্সিং ও ক্যারিয়ার (অফিস জব)

যে বা যারা বাসায় বসে কাজ করে বা লং টাইম কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন তাদের বেশি অবস্থা খারাপ হয়, তাই দিনে ২৪ ঘণ্টার যে কোন একটি সময়ে অন্তত শরীরের জন্য ৪৫ মিনিট ব্যয় করুন, হেটে / সাইক্লিং করে / সাঁতার কেটে / ফুটবল খেলে। অর্থাৎ যাই করেন না কেন, শরীর থেকে ঘাম ঝরতে হবে, মুভ মেন্ট হতে হবে প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যা আপনাকে লং টার্মে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করবে, একই সাথে ২ ঘন্টা পর পর চেয়ার থেকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন কাজের জায়গায় সেটা বাসা হউক বা অফিসই হউক, অন্যথায় মেরুদন্ড যন্ত্রণায় ভুগতে পারেন, সো খুবই সাবধান। একই বার্তা যারা অফিসে কাজ করেন তাদের জন্যও, অফিসে কলিগদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলুন, অফিসের আগে বা পরে এক্সারসাইজ করুন নিয়মিত। আরও জানুন কর্পোরেট লাইফে কি কি খেয়াল রাখবেন, কি কি এড়িয়ে চলবেন

নতুন নতুন জায়গায় যান এবং এক্সপ্লোর করুন

আপনি যদি ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাহলে বেরিয়ে পড়ুন আপনার সাইকেল / বাইক / গাড়ি নিয়ে, মাসে অন্তত একদিন নিজের জায়গা থেকে একটু দূরে কোথাও একা / পরিবার সহ বেড়িয়ে আসুন, কিছু সময় প্রকৃতির সাথে থাকুন, মাইন্ড ফ্রেশও হবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। সবুজের মাঝে গিয়ে খালি পায়ে হাঁটুন, বুক ভরে শ্বাস নিন, প্রকৃতির সাথে ছবি নিন, বাতাসের সাথে গল্প করুন, নিজেকে খুজুন ও প্রকৃতিকে জানার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন ভ্রমণ এক ধরনের লার্নিং যা বই পুস্তকে পাবেন না।

চাহিদা কমিয়ে আনুন ও চেষ্টা করতে থাকুন

জ্বি আমাদের চাহিদার শেষ নেই, তাই যদি ভালো থাকতে চান চাহিদা কমিয়ে ফেলুন, অন্যের কি আছে, অন্যে কি করেছে, অন্যে কি খেয়েছে এই সবের দিকে নজর না দিয়ে নিজের দিকে নজর দিন, নিজেকে সময় দিন, নিজের সাথে কথা বলুন, নিজের স্কিল উন্নতি করুন, নিজেকে বিলিয়ে দিন অন্যের উপকারে, নিজেকে গড়ে তুলুন, যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন, চেস্টা করে যান, লেগে থাকুন, নিজের ও নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন দেখবেন সফলতা ও ভালো থাকার নিশ্চয়তা আসবেই।

নামাজ ও শুকরিয়া আদায় এবং মিথ্যা পরিহার করুন

নিয়মিত নামাজ পড়ুন, আল্লাহ্‌র কাছে সব কিছুর জন্য শুকরিয়া আদায় করুন, আল্লাহ্‌ মহান, উনি সব কিছুর মালিক, উনার কাছে চান, জগতের সকল সমস্যার সমাধান উনি করে দিবেন, হতাশা / দুঃখ / কষ্ট / না পাওয়া / যন্ত্রণা সহ যা কিছু আছে মহান আল্লাহ্‌র কাছে নামাজের সিজদায় গিয়ে চান, মন থেকে চান, আল্লাহ্‌ মিলিয়ে দিবেন এবং পথ দেখিয়ে দিবেন। মিথ্যা এড়িয়ে চলুন, কাউকে ধোঁকা দিবেন না, সম্ভব হলে উপকার করবেন না হলে ক্ষতি করবেন না, আপনাকে মানসিক ভাবে অনেক ভালো রাখবে প্রফেশনাল লাইফে এবং ব্যক্তিগত লাইফে, তাই সব সময় সত্যি বলার চেষ্টা করবেন। কারো দ্বারা বিন্দু মাত্র উপকৃত হলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, ভুলে যাবেন না কখনই।

আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে আগ্রহী, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কার্টুন ও এনিমেশন, ইন্ড্রাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী, নাকি আপনার ভালো লাগে গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে, ওপেন কম এর কন্সার্ন ওপেন এডুর উদ্যোগে “মাস্টার গ্রাফিক্স ডিজাইন” কোর্সটি আপনার জন্য, কোর্সটি করার মাধ্যমে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন দক্ষ ও প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার আর নিজ চেষ্টা আর নিয়মিত প্র্যাকটিস আপনাকে করে তুল্বে আরও দক্ষ ও কৌশলী। কোর্স এ জয়েন করার আগে এখানে প্রফেশনাল নানান কাজ দেখে নিন, কোন জিজ্ঞাসা থাকলে কল করুন এবং বিস্তারিত জেনে এনরোল করে ফেলুন। (Call: 01567810773 / 01717911147)

আরবী শেখার জন্য ছোট্ট একটি উদ্যোগ, ছোটদের পাশাপাশি আপনিও উপকৃত হবেন, ডাউনলোড “Learn Arabic Alphabet” আরও পড়ুন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ক্যারিয়ার প্রফেশনাল সিভি ডিজাইনের নানান ডেমো ও কাজ দেখুন এখানে

তথ্য সূত্রঃ নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও টিভি মিডিয়া ইন্টার্ভিউ


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury

 Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me