করোনায় নিজেকে স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে

জ্বি আমরা নিশ্চিত এখন খুবই ঝুকিপুর্ন ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সারাবিশ্বে ৩,৬৬,১৫৩ মানে সড়ে ৩ লাখ এর বেশি মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন ইতিমধ্যে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের থাবায় তথ্য সূত্র এখানে। এইত গত কয়েক মাসের মাথাই লাখ লাখ মানুষ চলে গেল কিছু বুঝে উঠার আগেই আর হ্যাঁ এটাই বাস্তবতা। বিশ্বের বড় বড় দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ইউকে, চীন, ভারত সহ অনেকেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পেরে উঠছেন না। আর আমরা যেহেতু অনেক জনবহুল একটি রাষ্ট্রে “বাংলাদেশে” বসবাস করি আমাদের জন্য এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জও বটে, কারন আমাদের নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, নেই করোনা বিষয়ক নানান চিকিৎসা সরঞ্জাম, নেই পিসিআর মেশিন ও অত্যাধুনিক ল্যাব, নেই আইসিউ এবং ভেন্টিলেটর সহ নানান দরকারি জিনিস ইত্যাদি। এমনকি বাংলাদেশে ১৮ কোটি জনগণের জন্য আছেন ৯০,০০০ চিকিৎসক, তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনি এবং কই আছি কিভাবে আছি। এমনকি আমি আপনি বা আমাদের পরিবারের কেও যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, আমরা আসলেই কি জানি আমরা কি করবো? উপায় নাই আসলে ! আপনি ভাবতেও পারছেন না কি হবে বা কি হতে যাচ্ছে, তাই সময় এখন নিজেরাই নিজেদের সতর্ক করা এবং পরিবারকেও সতর্ক করা।

না, আমরা আসলেই জানি না করোনায় আক্রান্ত হলে আমরা কি করবো? আর আসলেই জেনেও লাভ হবে না। মানুষের বা রুগীর অনেক বেশি চাপ, হাঁসপাতাল রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সেবা দিতে গিয়ে, চিকিৎসকের অভাব, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রুগীদের রোগ নিয়ে লুকুচুরি আর কোন কারন ছাড়া জনসমাগম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার থেকে একটাই পরামর্শ “ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন, জীবন বাঁচান” এছাড়া আর কোন উপায় নেই। এইটার অন্যতম কারন হচ্ছে সচেতনার অভাব একই সাথে করোনা বিষয়ে অজ্ঞতা। আমরা আজ লকডাউন কি? কোয়ারান্টাইন কি? আইসোলেশন কি? এই সব এর ব্যাখ্যা নিয়ে খুবই চিন্তায় আছে, কারন সেভাবে গাইডলাইন বা তথ্য পায়নি, বিশেষ করে মফঃস্বল ও গ্রামের দিকে তো খুবই খারাপ অবস্থা যেখানে তথ্য পৌঁছানো খুবই কঠিন।

ঘরবন্ধি জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠা বাঙ্গালী হাওয়া বাতাস অনুভব করা বা নিজেকে একটু রিফ্রেশ করার জন্য বাহিরে বের হচ্ছেন এই লক ডাউন বা কঠিন সময়ে। খেটে খাওয়া মানুষ গুলো অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন (যাদের দিনের আয় দিনের সংসার চলে) মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো লজ্জায় কাউকে কিছু না বলে কঠিন সময় পার করছেন, চাকরিজীবী গণ চাকরি নিয়ে চিন্তিত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গণ এর মাথায় হাত, রীতিমত অনেক বড় বড় কোম্পানি লোক ছাটাই শুরু করেছেন, ছোট ছোট উদ্যোগ বন্ধ হওয়ার পথে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্ব, প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা, একই সাথে মৃত্যুর মিছিলও, এইতো ৫৮২ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন বাংলাদেশ থেকে আর ইতিমধ্যে ৪২৮৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত, আর সুস্থ্য হয়েছেন ৯০১৫ জন (২৯ মে ২০২০) এর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাটা অনুযায়ী তথ্য।

স্কুল- কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ তবে অনলাইনে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে শীঘ্রই, দোকান পাট, শপিং মল সহ মার্কেট এমনকি অফিস-আদালত সহ অর্থনৈতিক চাকা, কল-কারখানা এবং দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক খাত গার্মেন্টস শিল্পও বেশির ভাগ বন্ধ, নিয়মিত অর্ডার কেন্সেল হচ্ছে, ইকমার্স গুলো নিজেরা সার্ভাইব করার জন্য গ্রোসারি শুরু করে দিয়েছে কারন এখন মানুষ খাবার দাবার ছাড়া আর কিছুই কিনছে না বা কিনবে না অন্তত এই সময়ে। চারিদিকে নানান চিন্তা, হাহাকার, অসহায়ত্ব আর অন্ধকার চিত্র। খুব কঠিন সময় পার করছি আমরা আজ, আসলেই খুব কঠিন সময় ! এমন চিত্র খুব কমই দেখেছি আমরা এবং এই প্রজন্ম। ঈদের ছিল না আমেজ, ছিল না আনন্দ, ছিল না ঈদ গায়ে বা গ্রামে গিয়ে ঈদ করার নিয়ম, সবাই যে যার জায়গা বা অবস্থান থেকেই ঈদ কাটিয়েছেন সাদাসিদা ভাবেই, আর এটাই এই সময়ের বাস্তব চিত্র। আর হ্যাঁ মন খারাপ করার কিছু নেই, এই ঈদ শেষ ঈদ নয়, বেঁচে থাকলে অনেক ঈদ আসবে, আনন্দ করা যাবে, তাই আগে সচেতন হউন সময় থাকতেই।

আর হ্যাঁ এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে চাইলে নিজের শরীরের ইউমিনিটি বাড়ান, সে জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন, শাক সবজি খান নিয়মিত, চিন্তা মুক্ত থাকুন, সম্ভব হলে সাতার কাটুন, সাইক্লিং করুন ইত্যাদি। আমি নিজে কোন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নই, শিক্ষায় ও পেশায় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী, গবেষণা করতে ভালোবাসি, আর হ্যাঁ জীবন নিয়ে নানান ভাবে গবেষণা করি, আর সেটা নিজের উপর এপ্লাই করি, ফলস্রুত হলে অণ্যের সাথে শেয়ার করি, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যায় তা নিয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শঃ

  • নিজেকে সময় দিন, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
  • করোনা বিষয়ক তথ্য জানুন (বিশ্বস্ত) সোর্স থেকে।
  • সব সময় করোনা নিউজ নিয়ে পড়ে থাকবেন না, অন্য কিছু ভাবুন।
  • গুজবে কান দিবেন না, না জেনে শুনে তথ্য শেয়ার করবেন না (খুবই জরুরী)।
  • ডেইলি রুটিং চেইঞ্জ করুন, খাদ্য অভ্যাস চেইঞ্জ করুন।
  • ঘর পরিষ্কার, রান্না বান্নায় পরিবারকে সহযোগিতা করুন।
  • নিজের উপর আস্তা, মনোবল শক্ত ও পজেটিভ চিন্তা করুন।
  • অনলাইনে (গুগোল / ইউটিউব) থেকে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন।
  • নামাজ পড়ুন, আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করুন নিজের ও সমগ্র মানব জাতির জন্য।
  • সকালে / বিকেলে নিয়ম করে ব্যায়াম করুন, হাটাহাটি করুন বাসায় বা ছাদে।
  • শরীরের ইউনিমিনিটি বাড়ানোর চেষ্টা করুন, এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজে দিবে।
  • সকালে বারান্দায় বসে রবীন্দ্রসংগীত শুনুন, পাখির কথা মালা বুঝার চেষ্টা করুন।
  • প্রকৃতির সাথে প্রতিদিন সময় কাটান অন্তত ১ ঘন্টা হলেও বারান্দায় বা ছাদে।
  • পরিবার, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিবেশীরদের সাথে মাঝে মধ্যে হাই/হ্যালো করুন।
  • গান শুনুন, বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন, ডাইরি লিখুন, পুরনো দিনের ছবি দেখুন।
  • করোনা বিষয়ক উল্টা পাল্টা খবর কেও দিতে চাইলে সিম্পলই এভয়েড করুন।
  • করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি নিন, কি করবেন এবং কিভাবে করবেন।
  • নতুন কোন উদ্যোগ নিয়ে ভাবুন, তার মধ্যে আধুনিক কৃষি লিস্টে রাখতে পারেন।
  • আর হ্যাঁ এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নিজে বাসায় থাকুন, নিরাপদ থাকুন, জীবন বাঁচান

ধন্যবাদ, আজ এই পর্যন্ত, আবারও কথা হবে, ভালো থাকবেন আর নিজেকে ভালোবাসবেন।

আরও পড়ুন করোনা বিষয়ক লেখা এখানেঃ


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me