বাজরিগার পাখি পালন ও অভিজ্ঞতা

শুরুটা যেভাবে হয়েছিলঃ ২০১৬ সালে কোন এক বিশেষ দিনে শখের বসে আমি আমার স্ত্রীকে “ডাক্তার মাস্তুরা কাস্মীরী” এক জোড়া বাজরিগার পাখি কিনে দেই, তারপর ক’দিন পর আরও এক জোড়া, এর মধ্যে ১ টি অসুস্থ্য হয়ে যায়, একটি উড়ে যায় আবার আরও ১ জোড়া কিনি ! সেই থেকে শুরু যাত্রা…ফেইসবুকে বাজরিগার পাখির হেল্প পেইজ, বাজরিগারের ব্যবসায়ী ও ডাক্তার, গুগোল, ইউটিউব সহ নানান মাধ্যম থেকে শিখেছি বাজরিগার লালন পালন। নিজে জেনেছি এপ্লাই করেছি এবং আউটপুট পেয়েছি, একই সাথে নিজের জানা থেকে শেয়ার করেছি অন্যদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যমে, লিখেছি ব্লগে এবং কন্টেন্ট তৈরি করেছি ইউটিউবে, যার ভিউ ৩/৪ হাজার বার হয়েছে ইতিমধ্যে। আর ২ জোড়া পাখি থেকে ৩০-৩৫ জোড়া পাখি হয়েছে আমাদের, সময়ে সময়ে কাউকে দিয়েছি, বিক্রিও করেছি, আবার ব্যবসায়ী এসে নিয়ে গেছেন, তবে কাজটা এখনও শখেই রয়ে গেছে আর ভালো লাগা তৈরি হয়েছে।

কি কি সংগ্রহ করেছি এখন পর্যন্ত পাখি পালনের জন্যঃ ধান, কাউন, সুর্জ্জমুখী বীজ, ভুট্টা, ডাল (পাখির নিয়মিত খাবার), কলমি, পুই শাঁক, পুদিনা পাতা, কাঁচা মরিচ, কলা, গাঁজর, সিদ্ধ ডিম + পাউরুটি (প্রতি সপ্তাহে মিক্স করে দিলে ভালো হয়), এলোভেরা গাছের জেল (পাখির গায়ে পশম কম থাকলে মেখে দিলে পশম গজায়) ক্যালশিয়াম, সামদ্রিক মাছের ছোঁয়াল (ব্রিডিং এর সময় দিতে হয়), ইটের গুড়া (আয়রন এর উৎস পাখির জন্য), ইট (খাচার নিছে দেওয়ার জন্য) খাচা ফ্লোর থেকে একটু উপরে দিলেই ভালো, ন্যাফথালিন (তেলা পোকা ও টিক টিকি যাতে না আসে), বড় তোয়াল (খাঁচা ডেকে দেওয়ার জন্য, গরমে পাতলা কাপড় এবং শীতে ভারী), লাইট (শীতে পাখির খাচার উপর দিয়ে তাপ দেওয়ার জন্য) পানির ফিল্টার (পানি দেওয়ার জন্য, প্রতিদিন পানি চেইঞ্জ করা যায় সহজে), দোলনা (খেলার জন্য), আয়না (খেলার জন্য), প্লাস্টিকের পাইপ (বসার জন্য), ছোট্ট মই (পাখির খেলার জন্য), খাবারের পাত্র (মাটির বাজারে পাওয়া যায় ভাতের মাড় গালতে আমরা অনেকেই ব্যবহার করি ঐ রকম বা দইয়ের পাত্র), ডিম পাড়ার হাড়ি (ব্রিডিং এর জন্য উপযুক্ত দোকানে পাওয়া যায়), ১৮-২০ ইঞ্চি খাঁচা (আদর্শ খাঁচা বাজরিগার পাখির জন্য), নরম ফোম জাতীয় গুড়া (বাচ্চা ফুটালে হাড়িতে চিটিয়ে দিতে হয় যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় এবং হাড়ি শুকনো থাকে), পিচকারী ও সাইকেলের টায়ারের টিউব (ছোট্ট পাখিকে তরল খাবার দেওয়ার জন্য), সুলতান ফিড (ছোট্ট পাখির খাবারের জন্য), স্প্রে মুখ সহ বোতল ( পাখিকে মাঝে মধ্যে স্প্রে করে গোসল করানোর জন্য) খাবারের প্লাস্টিকের বাটি আংটা সহ (খাবার দিয়ে খাচার পাশে লাগিয়ে রাখা যায়), খাবারের বোতলের মুখে প্লাস্টিকের ভাটি, স্যালাইন (অনেক গরম বা পাখির বাথ রুম খারাপ হলে), পাখি ধরার ঝালি (পাখি ব্যাথা না পায়), বাশের কাঠি (পাখি খাচায় বসার জন্য), তার ও সুতা (হাড়ি খাচার ঝুলানো এবং ভালো করে বাঁধার জন্য), খাচার নিছে প্ল্যাস্টিকের প্লেট (খাচার সাইজ বরাবর যার উপর পেপার দিলে পাখির বাথরুম সংক্রান্ত ময়লা পরিস্কারে সহজ হয়) ইত্যাদি।

মাঝে মধ্যে বিরক্ত হয়েছি, বাজরিগার পাখি পালন নিয়ে, কিভাবে পরিস্কার করবো, কখন খাবার দিব, কিভাবে পানি দিব, পানির পাত্র পরিস্কার করবো কিভাবে ইত্যাদি নানান বিষয় নিয়ে। তবে দিন শেষে ওদের পাশেই ছিলাম মন থেকে এবং ভালোবাসা থেকে। আসলে কোন কিছু কেও শিখিয়ে দিতে পারে না, আপনি করতে করতে বা পালতে পালতেই শিখে যাবেন, তখন এক ধরণের ভালোবাসা থেকেই আপনি ওদের জন্য করবেন, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

বাজরিগার পালনে কি কি করতে হবে আপনাকেঃ

  • আদর্শ খাঁচা ১৮/২২ ইঞ্চি বানানো বা কিনে নিতে হবে, একটি খাচাইয় ৪-৬ টি পাখি দিতে পারবেন
  • খাচায় একটি পানির ফিল্টার, খাবারের বোতল, নিল গাছের ডাল বসার জন্য, দোলনা ঝুলিয়ে দেওয়া
  • শুকনো জায়গা (বারান্দা) এবং যেখানে আলো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা সিলেক্ট করতে হবে
  • প্রতিদিন একবার পানি চেইঞ্জ করে দিতে হবে, ফিল্টার পরিস্কার করে দিবেন সপ্তাহে ২বার
  • একবার খাবার দিলে ১ সপ্তাহ চলে যায়, চেইঞ্জ করতে হয় না বার বার (খাবার মিক্স হলেও ভালো)
  • ব্রিডীং এর সময়ে ক্যালসিয়াম, সামদ্রিক মাছের ছোঁয়াল, ইটের গুড়া, সিদ্ধ ডিম খেতে দিবেন
  • সিজনাল শাক সবজি খেতে দিবেন (কলমি, পুই শাক, কাঁচা মরিচ, গাঁজর ইত্যাদি) কুচি করে দিবেন
  • প্রতি মাসে একবার গোসল করাতে হবে, স্প্রে করে বা ঝরনার নিছে নিয়ে গিয়ে (নরমাল পানিতে)
  • প্রতি মাসে একবার খাঁচা ভালো ভাবে পরিস্কার করা ও জীবাণুনাশক (ডেটল পানি) স্প্রে করা
  • খাবার কম খায়, নোংরা করে কম, সারাদিন দেখ ভালো করার ঝামেলা নাই
  • পাখির ব্রিডিং এর সময় বা ডিমে তা দেওয়ার সময় বিরক্ত করা যাবে না
  • নিরাপদ ও শুকনো জায়গা পেলেই বাজি ডিম পাড়ে এবং তা দেয় বাচ্চা ফুটায়

কি কি সুবিধাঃ

  • সকাল বিকাল পাখির কিচির মিছির শুনা যায়
  • মনে হয় প্রকৃতির খুব কাছাকাছি আছি
  • সকাল বেলা পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে
  • অবসর সময় ওদের সাথে সময় কাটানো যায়
  • মন উদাসিন বা মন খারাপ থাকলে ওদের সাথে সময় কাটানো যায়
  • একাকীত্ব কাটানোর একটা বড় সমাধান ওদের সাথে সময় কাটানো
  • বাজিদের খেলা ধুলা, এক্টিভিটি আপনাকে খুবই আনন্দ দিব
  • শিশুরা খুবই আনন্দ পায় ওদের খেলা ধুলা ও এক্টিভিটিতে
  • বাজরিগার শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নয়, রোগ জীবাণু ছড়ায় না
  • বাজরিগারকে বিশেষ কোন টিকা বা ঔষধি দিতে হয় না
  • পাখি টেম (পোষা) করতে পারলে তো আনন্দের শেষ নেই
  • প্রচুর ফটোগ্রাফি করতে পারবেন মনে মতন করে
  • প্রচুর ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, অনেক অজানা জানতে পারবেন
  • দিন শেষে আপনি মনের একটা তৃপ্তি পাবেন, যা পাওয়া খুব কঠিন
  • একজন ধৈর্য্য শিল মানুষ হিসাবে পরিনত হবেন (১০০% গ্যারান্টি)

আরও জানা যাবে আগের এই লেখা থেকে বাজরিগার পাখি সম্পর্কে কতটুকু জানি


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me