একজন সিদ্দিকুর রহমান – অনুপ্রেরণা’র কথা মালা

 

(গল্পটা আজকে সকালের) – অফিসে আসার পথে ! অফিসের গাড়ি আসতে একটু দেরি করায় আমি লেগুনা করে ২নং এ চলে আসি আর সিদ্দিক কাকার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করি, সাথে একটি ডেইলি স্টার পত্রিকা (১২/-) ও একটি মাসিক “গণস্বাস্থ্য” ম্যাগাজিন (১৫/-) কিনি, বিজ্ঞান চিন্তা হাতে নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করি, আর কথা চলছেই…

বয়সঃ চল্লিশের উপর হবে, শ্যামলা বর্ণ গায়ের রঙ, সাদা কালো মাথার চুল, চোখে চশমা কালো ফ্রেমের, লুজ প্যান্ট এর সাথে কফি কালারের ফুল হাতার শার্ট পরা, আরমনে কঠোর পরিশ্রমের গল্প তো আছেই, সর্বদা এক গাল মুচকি হাসি, এই ভাবেই কেটে গেল দীর্ঘ ২২ বছর সিদ্দিকুর কাকার কর্ম জীবন..

মিরপুর পোস্ট অফিসের (গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের পাশেই) সামনে পত্রিকা/ম্যাগাজিন বিক্রি করেন। বয়স আনুমানিক চল্লিশ ছাড়িয়ে যাবে (ধারণা), মাত্র ২২ বছর ধরেই একই পেশায় নিযুক্ত আছেন, আগে বসতেন মিরপুর ২ এর মিরপুর মডেল থানার পাশেই। পুলিশি জামেলা সহ নানান কারনে এই দিকটাই সঠিক জায়গা হিসাবে বসে পড়লেন অনেক দিন হয়ে গেল।

তার আগে কাজ করতেন খুলনাতে, গ্রামের বাড়িও বললেন খুলনাতেই, খুলনা শহরের বেশ কিছু নাম করা এলাকায় তার পদচারনা ছিল, খুব অল্প বয়স থেকেই এই কাজে যুক্ত করেছেন নিজেকে, সেই পাকিস্তান আমল থেকেই এই হকারি কাজ করা শুরু করেছিলেন, যখন ১০ পয়সা করে পত্রিকা বিক্রি হত তখনও তিনি একই কাজ করেছেন, কাজের মাঝে কখনও কখনও বিরক্ত হলেও আবারও মন কে বুঝিয়ে কাজে মনযোগী হয়ে যেতেন।

কি বেশি বিক্রি হয়ঃ পত্রিকা

ম্যাগাজিন কেমন চলেঃ খুবই কম

আগের চেয়ে বিক্রি বেশি না কমঃ খুবই কম

আপনি পড়েন নাহঃ হ্যাঁ পড়ি

কোন পত্রিকাঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

মানুষ এখন আর পত্রিকা কিনে না, ম্যাগাজিন তো একদমই নাহ, প্রথম আলোর “কিশোর আলো” আর “বিজ্ঞান চিন্তা” টাই একটু বেশি চলে, এই দুইটা চললেও কমিশন খুবই কম, সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ম্যাগাজিন অবশিষ্ট থাকলে আর ফেরত নেয় না, গত মাসেও ৩টা বিজ্ঞান চিন্তা রয়ে গেছে, আমারই লস। মাসিক গণস্বাস্থ্য আর কারেন্ট ওয়ার্ল্ড টুকটাক চলে, চাকরির খবর পাতা বেশি চলে, সবাই আইসা ঐটাই চায়!

পত্রিকা তো সব সময় সবই বিক্রি হয়ে যায় না তাই নাহ, তাইলে বাকি গুলো কি করেন, উত্তরে মাঝে মধ্যে কিছু পত্রিকা দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়, না হলে ফেরত নিয়ে যায়, এই গুলো অন্য কাজে লাগায়, পেপার তহ নানান কাজে কেনা বেচা হয়। হুম !!! তবে কাকা আমি অন্তত এখানে এসে সব ধরণের ম্যাগাজিন ও পত্রিকা পাই, এই ব্যাপারটা আমার ভালোই লাগে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে কথার শেষে….

তাও বললেন, ভালো আছি, ভালো চলছে, দোয়া কইরেন…

কাকা বললেন কোন কাজই ছোট না, আমরাই খালি করি নাহ, চুরি ডাকাতি তো ভালো জিনিস নাহ, কস্ট কইরা কাম কইরা খাইয়া বাঁচলেই ভালা। আইসেন কাকা, আমি সব সময়ই আছি, যে কোন পত্রিকাই দিতে পারবো…

 

 

আপনার যে কোন মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন।

Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Email: ac.papon@gmail.com, Website: www.asive.me