গ্রামের নামে ওয়েব সাইট – সরখাল চৌধুরী বাড়ি

২০১৪ সালের দিকের কথা, গ্রামের নামে ওয়েবসাইট “অনলাইন ভিলেজ” বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে ফ্রীল্যান্সিং করছি পাশাপাশি একটি কর্পোরেট জব করছি, তখন ওডেস্কে বর্তমান আপয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রীল্যান্সার হিসাবে মননীত হয়ে ইমেইলও পেয়েছিলাম, সেই রাত কে রাত জেগে কাজ করা, কাজ শেখা সহ অনলাইন মুখি “মুক্ত পেশায়” নিয়জিত থাকা। পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও হাতে খড়ি হয় তখন থেকেই, আইসিটি বিষয়ক লেখা লিখতাম। তখন থেকেই নিয়মিত নিজের ব্লগেও লিখি।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ এমএসসি করার সময় গবেষণায় আমার এই কাজের অভিজ্ঞতা এবং এই লেখার অভ্যাস খুবই কাজে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহ ইন্টারন্যাশনাল জার্নালেও একটি পাবলিকেশন হয়েছে আমার, এই সবই জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জন আমার জন্য, যা বরাবরই আমাকে অনুপ্রাণিত করে সামনের দিন গুলোর জন্য। ফ্রীল্যান্সিং সময়টা ছিল আমার জীবনে খুব কঠিন এবং চ্যালেঞ্জ একই সাথে জীবনের অসাধারণ সময় গুলোর একটা বড় অংশ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোজেক্ট করার সময় ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এ হাতে খড়ি শুরু হয়, অতঃপর গুগোল, ইউটিউব সহ নিজ চেষ্টায় লেগে পড়েছিলাম শেখার জন্য।

সরখাল চৌধুরী বাড়ি

যা আমার ক্যারিয়ারের বড় অংশ জুড়ে আছে। ঠিক তখনই আমার মাথায় আসলো, আমাদের গ্রামে “সরখাল চৌধুরী বাড়ি” মানে আমাদের বাড়িতে অসাধারণ কিছু গুনী মানুষজন আছেন, যাদের জীবনী বা গল্প এখনও অনেকের কাছে শুনছি বা দেখছি, তাদের কিছু কর্মকান্ড আমাদের বাড়ির তরুন প্রজন্মকে খুবই অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে একজনের নাম না বললেই নয়, অধ্যক্ষ এ ডব্লিউ এম তোয়াহা মিয়া, সর্বশেষ চাঁদপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন, যা এখনও কলেজ লাইব্রেরীতে গেলে অধ্যক্ষ লিস্ট এ দেখা যায় “জ্যাঠার” নাম। বাড়ির উন্নয়ন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে উনার অবদান বলে শেষ করা যাবে না।

বাড়িতে কিছু অসাধারন কাজও নিয়মিত হয় সেই ছোট্ট বেলা থেকে দেখে এসেছি, যা এখনও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। যেমন, ছোট্ট বেলা ঘুম থেকে উঠেই আরবী পড়া মক্তবে, জামাতে নামাজ পড়া মসজিদে, লাইব্রেরীতে বই পড়া, মেডিকেল ক্যাম্প, ইফতার মাহফিল, ঈদের আগে রাতে পিকনিক, নানান খেলা ধুলা (ক্রিকেট ও ফুটবল, কেরাম, দাবা) , বাড়ির পুর্নমিলনী, শিক্ষা বিষয়ক কার্জক্রম ও বৃত্তি, পড়াশুনায় ভালো করাদের জন্য বিশেষ উপহার, আজান দেওয়া, নামাজ শিক্ষা ও নানান প্রতিযোগিতা এবং একই সাথে বাৎসরিক সাংস্কৃতিক উৎসব !

বাড়ির এমন অসাধারণ সব ঐতিহ্য গুলো এবং পুরনো ইতিহাস একই সাথে বাড়ির নানান আঙিনা ছবি গুলো বাড়ির তরুণদের কাছে তুলে ধরতে বাড়ির নামে একটি ওয়েব সাইট করার পরিকল্পনা করি। যেই চিন্তা সেই কাজ, শুরু করে দিয়েছিলাম একাই, পরবর্তীতে বাড়ির অনেকেই (দেশে ও বিদেশে) এই চমৎকার উদ্যোগের সাথে এক হয়েছেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে উদ্যোগটি এখনও চলমান। ভালো কোন উদ্যোগ কখন থেমে থাকে না বলেই আমি বিশ্বাস করি, তেমনি নিজের গ্রামের ওয়েব সাইট যখন ভিজিট করি, সত্যি নস্টালজিক হয়ে যাই সেই ছোট্ট বেলার স্মৃতি গুলো চোখে দেখে, যা আরও একবার মাইন্ড রিফ্রেশ করে দেয়। কিছু কাজ টাকার জন্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এবং মনের তৃপ্তি থেকেই করতে হয়।

একজনের কথা না বললেই নয়, শ্রদ্ধেয় রেজা চৌধুরী কাকা সদুর কানাডা থেকে সব সময় এই উদ্যোগটি যেমন প্রশংসিত করেছেন একই সাথে এটি চলমান করার জন্য সব সময় অনুপ্রাণিত করেছেন, আপনার জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এটাও এক ধরনের শিক্ষা, যা আমার ব্যক্তি জীবন এবং উদ্যোক্তা “অপেন কমিউনিকেশন” জীবনে কাজে লাগছে।


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me