একজন কৃষকের গল্প

 

নাম শাহদাত হোসাইন।

মানিকগঞ্জ জেলার, ঘিউর উপজেলার বৈলট গ্রামে বসবাস। দিনের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে কাজ করে কাটান।

মাত্র ৪০ বছর ধরে বাবা ও দাদার কর্মকে অবলম্বন করে নিজেও গরু লালন পালন করে আসছেন, স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়ে, ছেলে মানিকগঞ্জের একটি নাম করা কলেজ “দেবেন্দ্রনাথ কলেজ” থেকে মাস্টার্স শেষের দিকে সাবজেক্ট মনে নেই, মেয়েকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের জামাইও একজন কৃষক।

এভাবেই বলে যাচ্ছিলেন জীবনের গল্প, আমিও জিজ্ঞাসা করেছিলাম তারপর কি? কারন জীবনের গল্প শুনতে আমার ভালো লাগে, জীবনের গল্পে অনেক অর্থ লুকিয়ে থাকে, অনেক জানা অজানার বিষয় থাকে, অনুপ্রেরণার গল্পও থাকে, উনার ২টি গরু ও একটু বাছুর, ৫৫ হাজার টাকায় জমি লিজ নিয়ে অর্ধেক জমিতে হাইব্রিড ঘাস চাষ করছেন গরুর খাবারের জন্য আর অর্ধেক জমিতে হয়তো কোন সবজি করবেন নিজেদের খাবার এর জন্য, গরুই তাঁর একমাত্র সম্বল। নেই কোন জমি, নেই কোন সম্পদ, নেই কোন বড় ধরনের পুঁজি গরু লালন পালন করে কেনা বেচা করে যত টুকু পুঁজি হয় পরের বছর আবার ইনভেস্ট করেন, এভাবেই চলে গেছে ৩৫-৪০ বছর, সব চেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে কোন গাইডলাইন নাই, কোন শিক্ষা নাই, কোন শখের বসে নাহ, জীবন চালানোর তাগিধে বাব দাদার শিক্ষা টুকু দেখেই শিখে নিয়েছেন, হতাশা থাকলেও কথায় বিন্দু মাত্র বুঝতে দেননি। ছবিতে দেখুন হাসা মুখি মানুষ।

বাবা কে, দাদা কে দেখেছেন আর দেখেই শিখেছেন কিভাবে গরু লালন পালন করে সংসার চালাতে হয়, কিভাবে নিজের পায়ের উপর দাড়াতে হয়, কিভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়, কথার ফাঁকেই বলে ফেললেন ছেলের জন্য চাকরি টাকরির ব্যবস্থা কইরেন। বললাম ছেলে কি আপনার কাছে বা আপনার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে নাহ, বললেন নাহ, ছেলের এই সব ভালো লাগে নাহ, ছেলে চাকরি করবে ঢাকায় থাকবেই এটাই ছেলের ইচ্ছা।

আপনার ইচ্ছা কি ? আমার ইচ্ছা কি আর ছেলে শুনবে?

পরের টুকু কি হবে বা কি হওয়া উচিৎ মন্তব্য দিয়ে জানান…

 

আপনার যে কোন মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন।

Asive Chowdhury | Facebook | Twitter | LinkedIn | Google Site | Google Local Guides | Google Plus | YouTube

Email: ac.papon@gmail.com, Website: www.asive.me