কর্পোরেট লাইফে কি কি খেয়াল রাখবেন, কি কি এড়িয়ে চলবেন

কর্মক্ষেত্র / অফিস আপনার কর্মের জায়গা, অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন আপনার শিক্ষার জায়গা তেমনি অফিস হচ্ছে আপনার কর্মক্ষেত্র এবং শিখার জায়গা। তাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত কিছু নিয়ম কানুন কর্মক্ষেত্রে / অফিসে মেনে চলা উচিৎ। যা আপনার ক্যারিয়ার অগ্রগতিতে ভুমিকা পালন করবে। জব এর ক্ষেত্রে নতুনদের জন্য জব ইন্টারভিউ টিপস, কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন পড়ে নিন। আর আপনি যদি সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে ইতিমধ্যে নতুন কর্মজীবন শুরু করছেন তাহলে এই লেখা আপনার জন্য কাজে আসবে, একই সাথে যে বা যারা কর্মক্ষেত্রে আছেন তারাই নিজেদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নিতে পারেন। এখন থেকেই নিজেকে তৈরি করুন কর্পোরেট জগতের জন্য, তার জন্য শুরুতেই দরকার তা হল প্রফেশনাল সিভি। পড়ে নিন কেন প্রফেশনাল সিভি ডিজাইন জরুরী

  • অফিসে কাজের মনোযোগ নষ্ট যাতে না হয়, সে জন্য অযথা বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, পরিচিতজনদেরকে অফিসে আমন্ত্রণ না জানানোই ভালো। অফিসের বস ও অন্যান্য সহকর্মীগণও এটি অপছন্দ করতে পারেন। এটি বিবেচনায় রাখুন।
  • ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে ও অফিসের কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে স্মার্ট করুন, তবে অতিরিক্ত কোন কিছু করবেন না বা ওভার স্মার্ট হবেন না এবং অধিক জ্ঞান দেয়া এই সব থেকে বিরত থাকুন।
  • অফিসের ছোট খাট কাজ যেমন চা / কফি বানানো, এমনকি ফটোকপি করা ইত্যাদি নিজে নিজে করে ফেলুন, এর জন্য অফিসের পিয়ন কে কাজে লাগাতে হবে এমন কোন কথা নেই, এটা বিদেশে খুবই চর্চা হয়, নিজের কাজ নিজে করা।
  • ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কম বেশি সবাই আমরা জানি। নানান কারনে আমরা ধূমপান করি, এইটা এক ধরনের অভ্যাসও বলতে পারেন। তবে এই একই অভ্যাস আমরা অফিসেও অনেকে ত্যাগ করতে পারি না। অফিস টাইমে কিছুক্ষণ পর পর অফিসের বারান্দায় বা নীচে নেমে দোকানে গিয়ে ধূমপান করার অভ্যাসটা বন্ধ করুন। কেন না এতে কাজের সময় নষ্ট হয় একই সাথে পরিবেশ ও নষ্ট হয়।
  • আপনি যদি ভালো লিডার হতে চান তাহলে সেটা আপনার কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করুন, অন্যের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও নমনীয় হয়ে কথা বলুন, সম্ভব হলে অণ্যকে হেল্প করুন এবং নিজেকে অন্য কিছু বা কিছু একটা না ভেবে সবার মতো সাধারণ কর্মী ভাবতে শিখুন।
  • অফিসের খুব গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হচ্ছে আচার ও আচরণ। ছোট ছোট কিছু আচরণে দেখবেন আপনার অজান্তেই আপনার অফিসের সহকর্মী মন ক্ষুণ্ণ হতে পারে, তাই এই সব ব্যাপারে খুবই সতর্ক হউন, আর অফিসের নারী সহকর্মীদের সম্মান প্রদর্শন করুন। যে কোন কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করুন। অফিসকে তাদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল করতে আপনি সহযোগিতা করুন।
  • অফিসের সমালোচনা করা বন্ধ করুন, অনেক কাজই আপনার নিজের মত হবে না, এটাই স্বাভাবিক, কারন ওখানে সবার সিদ্ধান্ত বা বসের সিদ্ধান্ত আপনার সিদ্ধান্ত এর সাথে নাও মিলতে পারে, তাই বলে অন্যের কাছে বা কলিগদের কাছে নিজের অফিসের বদনাম বা সমালোচনা করবেন না। কোম্পানীর কাজকে নিজের কাজ মনে না করলে জীবনে উন্নতি করা খুব কঠিন হবে, একই সাথে নতুন কোম্পানিতে কাজে যোগ দিলে পুরাতন কোম্পানির বদনাম করা বন্ধ করুন।
  • সবাই নিজেকে সুন্দর রাখতে কম বেশি পছন্দ করে, তাই বলে অফিসে কাজের সময়ে বার বার ওয়াস রুমে গিয়ে আয়নায় নিজেকে সুন্দর করা, মেকআপ করা, চুল আচড়ানো এই গুলো অফিসে না করাই ভালো। বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন কোন মিটিং এ এটেন্ড করলে বা বের হওয়ার সময় একটু করে নিলেন মানে যাকে বলে স্বাভাবিক ব্যাপার।
  • অফিসে কাজের সময়ে অনলাইন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সময় ব্যয় পরিহার করুন। এতে আপনার সহকর্মী বা অফিসের বস বিরক্ত হতে পারে। অনেক সময় অনেকের নজরেও আসে ব্যাপার গুলো, একদিন দুই দিন এক দিন হয়তো বস বলেই বসবে “অফিসে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যাবে না”, তাই আগে থেকেই সাবধান হউন।
  • অফিস চলাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত ফোনালাপ দীর্ঘায়িত না করা উত্তম। একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে অযথা চ্যাটিং / কলিং না করাই আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো। ক্লাইন্ট ছাড়া অন্য কাউকে ফোনে সময় না দেওয়াই ভালো। আপনার পরিবারকে জানিয়ে দিন এই সময় থেকে এই সময়ে আপনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। লাঞ্চের সময় ২-১ মিনিট করে বলে নিতে পারেন।
  • অফিসে জয়েন করেই আপনার কোন কলিগ কে তুমি বা তুই করে বলে ফেলবেন না। এমনকি কাউকে হুট করে নামের পাশে সাহেব বলে ডাকবেন না। অফিসের নিয়মুযায়ী আপনি স্যার কিংবা ভাইয়া / আপু হিসাবে ডাকতে পারেন। ইভেন ভাইয়া বা আপু বলার আগেও অনুমুতি নিয়ে নিবেন যে স্যার / মেডাম ডাকবেন নাকি ভাইয়া / আপু, এই গুলো ছোট বিষয় কিন্তু খুবই গুরুত্বপুর্ন।
  • অফিসে সময় মত আসুন এবং সময়ের পর বের হউন। সকাল ৯.০০ টায় অফিস টাইম হলে ৮.৪৫ – ৮.৫০ এই অফিসে পৌঁছে যান, এর পর ফ্রেশ হয়ে চা খেয়ে কাজে বসে পড়ুন। অফিস টাইম ৫.০০ – ৬.০০ টায় শেষ হলে ১৫/২০ মিনিট পর অফিস এর কাজ শেষ করে বের হউন।
  • অফিসের যদি নির্দিস্ট কোন ড্রেস কোড থাকে তাহলে মেনে চলুন, একই সাথে নিজেকে পরিপাটি রাখার জন্য ক্লিন সেভ, চুল ছোট রাখা, পোলো শার্ট বা ফুল হাতা শার্ট পড়ুন। নতুন নতুন জামা কাপড় বা কালারপুর জামা কাপড় এই সব না করে পরিস্কার ফরমাল ড্রেস কোড অনুসরণ করুন অফিসের নিয়মানুযায়ী। উচ্ছৃঙ্খল জামা কাপড় বা চুলের স্টাইল পরিহার করুন। প্রয়োজনে নিয়ম গুলো অফিসের এইচআর এডমিন স্যার/মেডাম কে জিজ্ঞাসা করে নিবেন, এতে লজ্জার কিছু নেই।
  • শুধু শুধু ছুটি কাটাবেন না, দরকার ছাড়া বা খুব প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না কাটানোই উত্তম। অফিসে নিয়মিত থাকলে আপনার কাজের স্পিড বাড়বে, আর ঘন ঘন ছুটি কাটালে কাজের প্রতি আলসেমি চলে আসবে। এটাই চিন্তায় রাখবেন।
  • নিজের ডেস্ক সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং সেটা নিজেই। অফিসের প্রিন্টারে ব্যক্তিগত বা অযথা কোন প্রিন্ট / ফটোকপি করবেন না। অফিসিয়াল কাজ ব্যতিত অফিস থেকে পাওয়া গাড়ি বা বাইক নিজের কাজে ব্যবহার করবেন না। নিজের রুম ত্যাগ করার সময় নিজের ডেস্কের কম্পিউটার / ল্যাপটপ, ইউপিএচ, লাইট, ফ্যান ইত্যাদি বন্ধ করেছেন কিনা আরও একবার দেখে নিবেন।
  • অফিসের পিয়ন, ড্রাইভার, বুয়া, দারোয়ান সহ যে বা যারা আছে সবাইকে সম্মান করুন, কখনও নিজের অজান্তেই খারাপ ব্যবহার করে বসলে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। তাদের প্রতি একটু বিনয়ী হলে তারা আপনার নানান সময়ে নানান উপকার ও সম্মান করবে। আর এটা হবে আপনার নিজের অর্জন।

তথ্য সূত্রঃ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে [৮ বছর কর্পোরেট জীবন এর অভিজ্ঞতা থেকে]


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury

 Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me