কৃষিতে তরুণরা, আধুনিক কৃষি ও উদ্যোক্তা

করোনা ভাইরাসের ঠিক এই কঠিন সময়ে ইতিমধ্যে যে বা যারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়েছেন এবং বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন ও গ্রামে গিয়েছেন গত এক দেড় মাসে কৃষি কাজের নানান প্রকল্পে হাত দিয়েছেন তা ইনবক্সে এবং টাইমলাইন ঘুরলেই দেখা যাচ্ছে, কেও শখের বসে আবার কেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবার কেও নিরাপদ খাদ্যের যোগান, আবার কেও খাদ্য সংকট দূরীকরণ ইত্যাদি নানান কারনে, তবে আশার বানী হচ্ছে করোনার এই মহামারীতে বাংলাদেশের ব্যাপক ইগো সম্পৃক্ত তরুণ ও তরুণদের পরিবারের একটা বড় অংশ আবার কৃষিতে ঝুঁকবে, তবে এটি আসলে কতটা পারিবারিক / সামাজিক সম্মতি পাবে তাই এখন দেখার বিষয়, বিশেষ করে নিজের পরিবার থেকেই।

গ্রাজুয়েশন / পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করে নানান প্রতিষ্ঠানে নাম মাত্র বেতন (পাইজলাইমি ছাড়া আর কিছু নয়) ১০,০০০/২০,০০০/৩০,০০০/- টাকা বেতনের চাকরি করবে ঢাকায় থাকবে আর বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সহ মাসে ১৫-২০/- হাজার টাকা খরচ করে ফেলবে এটাই চলমান, এটাই চলছে, এটা হলেই সব ঠিক আছে, আসলে দিন শেষে ঐ তরুণ এর ৫-১০ বছর পর ক্যালকুলেটর নিয়ে হিসাব কষে দেখবে কিছুই নাই সেভিংসে বা কিছু সম্পদ (অকল্পনীয় ব্যাপার) , সত্যি বলতে বাড়ি (ফ্ল্যাট) আর গাড়ি তো দুঃস্বপ্ন ঢাকা শহরে এই বেতনে, তারপরও এক দল ইগো সম্পৃক্ত তরুণ সমাজ বছরের পর বছর আমরা একই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা অতীত শিক্ষা, উদ্ভাবনী কাজ, উৎপাদন মুখি চিন্তা, নিজের মত কিছু করা, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ, শহরে থেকে গ্রাম মুখি জীবন ব্যবস্থা, শহরে পড়া শুনা শেষ করে গ্রামে ফিরে যাওয়া, গতানুগতিক কৃষি বাদ দিয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে কৃষি সমন্বিত খামার পরিকল্পনা এই গুলো নিয়ে তরুণরা (সেলফি/ফেইসবুক/ইউটিউব) জেনারেশন চিন্তাই করতে পারছি না, কারন এই সব করলে হয়তো গ্রামে একদল “থু” চিটাবে আর উপহাস করবে “লেখা পড়া কইরা লাভ হইল কি” ! এই অবস্থা !!!!

হয়তো একটা বড় অংশ (তরুণরা) ভাবছে লজ্জায় কারো সামনে যাওয়া যাবে না, পরিবার থেকেও চাপ থাকবে অনেক, মা কে গ্রামের আশে পাশের মানুষ নানান কথা শুনাবে, বাবাকে বাজারে সমবয়সী নানান মানুষ নানান কটু কথা বলবে, আর আত্মীয় স্বজন তো কটু কথার বন্যা ভাসিয়ে দিবে, বন্ধু-বান্ধব উপহাস করবে আরও নানান সামাজিক ব্যাপার। নিজে কিছু করা বা নিজেকে কৃষিতে সম্পৃক্ত করা লজ্জায় মাথা নিচুর মতন অবস্থা চিন্তা করা ফেইসবুক জেনারেশন এইটা ভাবছে না “ইন্ড অফ দা ডে” ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি মানে নিজের চিন্তা নিজে কর। আসলেই কেও কাউকে জায়গা করে দেয় না, নিজের জায়গা নিজেকে করে নিতে হয়। যে বা যারা দেশে বা বিদেশে এমনকি ঢাকায় অন্যান্য সেক্টরে সফলতার দ্বার দেখেছেন উনাদের কথা ব্যতীত, বলছি না যে সবাই এই খাতেই আসবে ঠিক তা নয়, আগ্রহ আর ইচ্ছা শক্তি এবং লেগে থাকার পাগল মানুষ, যন্ত্র থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে ঝুঁকার মানুষ গুলোই আসলেই এই দিক নিয়ে ভাববে, তবে যদি একটা বড় অংশ (শিক্ষিত তরুণ) উৎপাদনে অংশ নিতে পারে যা দেশে আরেকটা কৃষি বিল্পব ঘটাতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতেও, ইতিমধ্যে অনেকেই ঢাকা শহর ছেড়ে চলে গেছে গ্রামে। আবার অনেকেই বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিয়েছেন পরিবার সহ। তবে অন্ধকার ভবিষ্যৎ এর চিন্তা ও পরিকল্পনা করে আর একটা বড় অংশ (তরুন সমাজ) ঢাকায় ভাড়া বাসায় বা মেসে বা হোস্টেলে থেকে নিজের জীবনের সর্বচ্চ দিয়ে কঠিন জীবন যাপন করছেন আর জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন একটু ভালো থাকার জন্য, যা যান্ত্রিক এই শহরে হয়ে উঠছে না আর হবেও না।

ঢাকায় চলমান কিছু উদ্যোগ বা ব্যবসা যেমন, চামড়ার পণ্য যেমন জুতা/ব্যাগ/বেল্ট/অয়ালেট অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ, গরুর দুধ, দই, মিষ্টি, ঘি অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ, চাল গ্রাম থেকে এনে শহরের দোকানে বিক্রির উদ্যোগ, ট্রেডিং নির্ভর আমরা চায়না থেকে কম দামে জিনিস ঢাকায় এনে সারা দেশে অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ ,বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় খাবার এনে বিক্রির উদ্যোগ, কেক, পিঠা, মিষ্টি বানিয়ে বিক্রির উদ্যোগ, শাড়ি বিক্রি করার উদ্যোগ, ইমিটেশন বা গোল্ড প্লেট এর জিনিস বিক্রি করার উদ্যোগ, চাদর বিক্রি করার উদ্যোগ, সবজি ও ফলমূল বিক্রি করার উদ্যোগ, মুদি দোকানের জিনিস বিক্রি করার উদ্যোগ, জামা ও কাপড় বিক্রি করার উদ্যোগ, বাসার টাংকি পরিস্কার করার উদ্যোগ, মটর সাইকেল ভাড়া করা বা লিফট নেওয়ার উদ্যোগ আরও কত কি ! গত ৫ বছরে এই উদ্যোগ গুলোই চলমান ঢাকায় এবং সব উদ্যোগ গুলোর মধ্যেই তরুণদের সম্পৃকতা, আর এটা মোটেও অপমান জনক বিষয় নয়, এই গুলো এক একটা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা মাত্র, কারন সবই ইকমার্স (অনলাইনে কেনা বেচা) আর একই কাজ গ্রামের দিকে যদি কেও চিন্তা করতো তাইলে মহা বিপদ ও সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসতো। আসলেই পরিস্থিতি অনেক কিছুর পরিবর্তন নিয়ে আসে, আর সামনে দিন গুলোতে আরও পরিবর্তন আসবে এটাই চরম বাস্তব কথা।

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের নানান দেশে গিয়ে ক্ষেতে খামারে, মসজিদে ও মহল্লায়, রাস্তায়, দোকানে, হোটেলে, রেস্টুরেন্টে কাজ করলেও অসুবিধা নাই কারন গ্রামের কেও বা পরিচিত কেও দেখে না বা দেখবে না, এই ইগো সমস্যাটা আমরা আদও পরিহার করতে পারছি না, একটা কারনও আছে শ্রম মুল্য হয়তো আমাদের দেশ থেকে সেখানে বেশি, যাই হউক এই সমস্যা জানি না কত দিন লাগবে আমাদের দূর করতে তবে সময় এখন কিছুটা পরিবর্তন হওয়ার, মনে হচ্ছে শুরু হয়েছে না হলে আজকে এই লেখার জন্ম হত না।

লেখা পড়া করে এত টাকা খরচ করে গ্রামে এসে কৃষি কাজ বা কৃষি পরিকল্পনা করবে ছি ছি ছি ! শুধু এই লাইন টুকুই একটা বড় অংশ তরুণদের ধ্বংসের কারন হয়ে গেছে আমাদের সমাজে, গ্রামে, দেশে ও শহরে আর পরিবারে, মানে হল লেখা পড়া করে চাকর বা চাকরী করতে হবে সেটা ৮/১০/১৫ হাজার টাকা বেতনের হলেও, যাই হউক না কেন চাকরী করতেই হবে এর বাহিরে কোন জগত নাই বা থাকা যাবে না…মনে হচ্ছে পরিবর্তনের আওয়াজ আসছে বা আসবে করোনা পরবর্তী কালীন সময়ে, কারন চিত্র অনেক পাল্টাবে বা পাল্টাচ্ছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠিত ইকমার্স (অনলাইন বিজনেস) সব কিছু বাদ দিয়ে চাল,ডাল,আটা,ময়দা,তেল বিক্রি করা শুরু করছে নিজেরা সার্ভাইব করার জন্য বা কোম্পানি বাঁচিয়ে রাখার জন্য আসলে উপায় নাই, কারন মানুষ এখন অন্য জিনিস কেনার কথা কল্পনাও করছে না খাবার এর আইটেম ছাড়া, সামনের দিন গুলোতে কে কিভাবে শহরে, গ্রামে আধুনিক কৃষিতে সম্পৃক্ত হবে আর পরিবার এবং সমাজ থেকে সহযোগিতা পাবে এটাই দেখার বিষয়…

লন্ডন থেকে একজন কম্পিউটার সায়েন্স এ ডিগ্রী ও বাংলাদেশ থেকে একজন কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ডিগ্রী নিয়ে ২ তরুণ শুরু করেছে উত্তরায় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চাষ, অনুপ্রেরনা দিচ্ছেন স্বয়ং বাবা…কল্পনা করা যায় পরিবর্তনের ধারা, তাই অন্য কথা বা পিছু কথা না ভেবে নিজে গল্প তৈরি করুন, অন্যের কথা নয় নিজের কথা শুনুন, সময় এখনই…নেমে পড় হে তরুণ সমাজ। এখনই সম্ভব তারুন্যের এই উদ্দমী সময়ে…জ্বি হ্যাঁ আমি একজন তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা হিসাবে আমিও ভাবছি আর লিখছি,পড়ছি…বাকিটা আল্লাহ্‌ ভরসা ! আল্লাহ্‌ সকলকে এমন কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার তৌফীক দান করুক, সমগ্র মানব জাতিকে করোনার এই মহামারী থেকে রক্ষা করুক, আমিন।


লেখক ও গবেষক – প্রকৌশলী আছিব চৌধুরী

“Love yourself & you will get a way how to live” – Asive Chowdhury

# মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শরীর চর্চা করুন এবং সুস্থ্য থাকুন #

আপনার যে কোন মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিতে পারেন। পরবর্তীতে কি বিষয় নিয়ে লেখা চান সেটিও জানাতে পারেন ইমেইলের মাধ্যমে (asive.me@gmail.com)

My Research Publication in International Journal | About Asive Chowdhury Learn with Asive | Facebook | Twitter | LinkedIn | Instagram | Blog Spot YouTube | BudgerigarsWiki

I am a Google Local Guide | Wikipedia | Asive’s Blog

I am in Flicker | I am in Google Maps | I am in wikipedia Commons |I am a Designer | I am in Google Site

Email: asive.me@gmail.com, Web: asive.me